Random Posts

দড়িতে বাঁধা জীবন, মেলে না মুক্তি !!!


চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ দড়িতে বাঁধা জীবনের কেটে গেলো ২৫বছর। তবুও মেলে না মুক্তি। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কোদালিয়াপাড়া গ্রামের হত-দরিদ্র মুক্তার হোসেন ও  শিখা খাতুনের ছেলে শাকিল হোসেন।

জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী শাকিল হোসেন। কথা বলতে পারেন না। বুকে হামু দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে পারেন। কিন্তু দৌড়াতে পারেন না। তবুও ঘরের মেঝেতে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় তাঁকে। ছোটবেলা থেকে এভাবেই চলছে তাঁর জীবন। শাকিল হোসেন উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কোদালিয়াপাড়া গ্রামের হত-দরিদ্র মুক্তার হোসেনের ছেলে। শীতে কাঁপছে আর হাউমাউ করে কিছু বলার চেষ্টা করছে সে।

শাকিল হোসেনের মা শিখা খাতুন জানান, শশুরের পৈতৃক ভিটায় ১কাঠা জমির ওপর ঘর আমাদের। স্বামী মুক্তারও মানসিক রোগী। পরিবারে দুই সন্তান। এক মেয়ে ও এক ছেলে। বড় সন্তান শাকিল হোসেন। আমাদের স্বপ্ন ছিল শাকিলকে পড়ালেখা করিয়ে চাকরিতে দেবো। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস জন্ম থেকেই মানসিক সমস্যা দেখা দেয় শাকিলের। অন্যের বাসা বাড়িতে কাজ করে চালায় সংসার। অভাবের সংসার চলাতেই টানাপড়েন। তবুও দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মানসিক ডাক্তার দেখিয়েছি। তবে ভালো হয়নি। বড় ডাক্তার দেখাতে পারি নাই টাকার অভাবে। কোথাও চলে যাবে তাই এভাবেই ঘরের মেঝেতে ছেলেকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখি। আবার মাঝে মাঝে শিকলেও বাধা হয়।
দিনে এক-দুইবার খাবার দেওয়া হয়। বাঁধা অবস্থায় খাওয়ানোসহ সব কিছু করানো হয়। মানুষ দেখলে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। মাঝে মধ্যে আবার উত্তেজিতও হয়ে ওঠে শাকিল। শাকিলের চিকিৎসা করাতেও বিপুল অর্থ প্রয়োজন।
 
ভেড়ামারা চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপন জানান, পরিষদের মাধ্যমে যতটুকু সাহায্যে সহযোগিতা করা সম্ভব তা আমি করে যাচ্ছি। আর ওকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার কথা আমি শুনিনি।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা মমতাজ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ খবর নিয়ে শাকিল হোসেনের পাশে দাঁড়াবে উপজেলা প্রশাসন। তার পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।




Post a Comment

0 Comments