কুষ্টিয়ায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যা ॥ স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার আগের স্বামী

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া শহরে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও স্ত্রীর আগের স্বামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শহরের আড়ুয়াপাড়ায় নিজ শয়নকক্ষে নিহত হন ব্যবসায়ী মেজবাহ উদ্দিন সাব্বির (৪০)।  এ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম জানান। গ্রেপ্তাররা হলেন সাব্বিরের দ্বিতীয় স্ত্রী সদর উপজেলার শামসুল ইসলামের মেয়ে রজনী খাতুন (২৫) এবং রজনী খাতুনের আগের স্বামী বাড়াদি উত্তরপাড়া গ্রামের প্রয়াত হানু মালিথার ছেলে আতিউর রহমান ওরফে আতাই (৩০)। গ্রেপ্তারের পর তাদের দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় মেজবাউদ্দিন সাব্বিরের বড় বোন মোছা. রাবেয়া খাতুন বাদী হয়ে রজনী খাতুন ও আতিউর রহমান ওরফে আতাইকে আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার খাইরুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ড ও গ্রেপ্তারদের সম্পর্কে বলেন। গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে খাইরুল আলম জানান, এজাহারনামীয় আসামি রজনী খাতুনের আগের স্বামী আতিউর রহামান ওরফে আতাইয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি রজনী খাতুনকে বিয়ে করেন মেজবাহ উদ্দিন সাব্বির। তবে ইতোমধ্যে রজনী খাতুনের সঙ্গে তার আগের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়। তাই সাব্বিরকে তাদের রাস্তা থেকে সরানোর জন্য তারা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন।
এসপি খাইরুল আরও বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রজনী খতুনের সঙ্গে যোগসাজসে আতিউর রহমান ওরফে আতাই সোমবার (৩ অক্টোবর) গভীর রাতে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় মেজবাউদ্দিন সাব্বির ধারালো চাকু দিয়ে জবাই করে হত্যা করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আতাই পুলিশের কাছে সমগ্র হত্যাকাণ্ডে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
আতিউর রহমান আতাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় হত্যা মামলাসহ অন্তত অর্ধডজন বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অপরাধের মামলা আছে বলে এসপি জানান। 

Post a Comment

Previous Post Next Post