ভেড়ামারায় আওয়ামী লীগ নেতা ইনতাজ আলীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ॥ ২দিনের আল্টিমেটাম

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইনতাজ আলী শেখকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২ দিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে ব্যার্থ হলে মানবন্ধন ও সমাবেশের আল্টিমেটাম দিয়েছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দরা। ভেড়ামারা থানায় ১টি মামলা দায়ের হয়েছে।  আসামিরা হলেন ভেড়ামারা উপজেরার ধরমপুর ইউনিয়নের মহিষাডোরা গ্রামের নাজিম (৫২), সাবোত (৫৪), সবুজ (২৯), ইনসান (৫৪), ইজামদ্দীন (৪৭), জলিল (৪০), করিম (৩৮), রাহাজ উদ্দীন (৫৫), ফারুক (৩৪), রাজিব (৩০), আনার (৪৪), রাকিব (২২), নাদের জোয়ার্দার, (৫৫), শিশির (২৫), ভাদু ড্রাইভার (৫২), আরিফ (৩৬) মিজানুর (৩৮)। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা ৩ ও ৪ জন।
ভেড়ামারা থানা ও নিহতের পরিবার এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০ টার দিকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ইন্তাজ আলী শেখ (৪৭) তার ছেলে শাকিলকে (২৪) সাথে নিয়ে ব্যবসায়িক কাজ শেষে ধরমপুর ইউনিয়নের মহিষাডোরা বাজারে অবস্থান করলে একদল দুর্বৃত্ত ইন্তাজ ও তার ছেলে শাকিলকে ধরে হাতুড়ি, রড, লাঠিসোঁটা দিয়ে মারপিট করতে করতে রাস্তায় নিয়ে আসে এবং সেখানেও তাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে। এক সময় তারা নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মৃত ভেবে দুর্বৃত্তরা তাদের সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাকাজনক অবস্থায় ইন্তাজ ও তার ছেলে শাকিলকে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে ভেড়ামারা হাসপাতালে ভর্তি করলে তার অবস্থা আশংকাজনক হলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরবর্তীতে অবস্থার আরো অবণতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত ১০টার দিকে ইন্তাজ আলী শেখের মৃত্যু হয়। নিহত ইন্তাজ আলী শেখ ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ধরমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুল আলম লালুর অনুসারী ছিলেন। এছাড়াও তিনি ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সোমবার রাত ৯টায় ইন্তাজ আলী শেখের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২ দিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করলে মানবন্ধন ও সমাবেশের আল্টিমেটাম দিয়েছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দরা।
ভেড়ামারা ধরমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহাবুল ইসলাম লালু বলেন, ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইনতাজ আলী দলের জন্য নিবেদিত ছিলেন। এলাকার নব্য যুবলীগের নেতা কর্মীরা শনিবারে তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। রোববার রাতে রাজশাহী হাসপাতালে সে মারা যায়। এসব অভিযুক্ত ক্যাডার বাহিনীর শাস্তি না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। ২ দিনের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করলে মানবন্ধন ও সমাবেশের আল্টিমেটাম দিয়েছে এরাকাবাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দরা।
নিহত ইনতাজ আলীর ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, পূর্বের বিরোধ শুধু নয়, এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত রয়েছে। আসামিরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করছে। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এই হত্যার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ইন্তাজ আলী শেখ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আওয়ামী লীগ নেতা ইন্তাজ আলী শেখ ও তার ছেলেকে মারপিটের ঘটনায় পরের দিন ১৭ জনকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ইন্তাজ আলীর ভাই রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এখন ইন্তাজ আলী শেখ নিহত হওয়ায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের হবে। আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 

Post a Comment

Previous Post Next Post