আমার চোখে দেখা প্রয়াত সাংবাদিক ডাঃ এ কে এম কাওছার হোসেন

মাহবুব আফাজ
১৯৮৭ সাল। আমি এইচ, এস, সি (ইন্টারমিডিয়েড) পাশ করে মুকুল ফৌজ (শিশু কিশোর যুব প্রতিষ্ঠান) বগুড়া জেলা শাখার আমন্ত্রণে বগুড়া যায়। সেখানে অবস্থান করি  ৭ দিন। ঐ সময়ে পরিচয় হয় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগ অধ্যায়নরত শীলা আপার সাথে। শীলা আপার বাবা বিদ্যুতের ঢঘ । শীলা আপা নির অহংকার মিশুক এবং ভাল মেয়ে। দিন শেষে সন্ধ্যার পর তার বাবার সরকারি বাসায় আমরা কজন আড্ডা দিতে যেতাম। ঐ সময় আমি কবি হওয়ার নেশায় মত্ত। ভুল-ভাল কবিতা লিখি। শীলা আপা আমার লেখায় মুগ্ধ হয়। তিনি আমাকে কবিতা লেখার অনুপ্রেরনা দিতে থাকে। বগুড়া থেকে প্রকাশিত বহুল প্রচারিত দৈনিক করতোয়া পত্রিকার সুযোগ্য সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু সাহেবের সাথে শীলা আপার যোগাযোগ ভাল ছিল। সেই সূত্রধরে আমাকে দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় কবিতা পাঠানোর  সাথে ভেড়ামারার সংবাদ পাঠানোর কাজটা করার পরামর্শ দেয়। পরামর্শটি আমার দারুন পছন্দ হয়। বগুড়ার কাজ শেষে ভেড়ামারায় চলে আসি। মাথায় সাংবাদিক হওয়ার পোকা গিজগিজ করছে। কিন্তু সংবাদের রসদ জোগাড় ও সংবাদ কিভাবে লিখতে হয় আমি জানিনা। বেশ কয়েক দিন ভেড়ামারা কিছু কথিত সাংবাদিকদের পিছে ঘুর ঘুর করতে লাগলাম। কিন্তু ফলাফল শুন্য। দিন শেষে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরি। বিষন্ন মন নিয়ে আধো জাগা রাত্রে বিভিন্ন প্ল্যান আটি। কোন একদিন সকালে সাংবাদিক হওয়ার অভিপ্রায় গিয়ে হাজির হয় বাংলাদেশের প্রভাব শালী পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জনপ্রিয় সমাজ সেবক ও ডাক্তার জনাব ডা. এ কে এম কাওছার হোসেনের চেম্বারে। চেম্বারে আগন্তকদের মধ্যে কেউ রোগী কেওবা পৌর নাগরিক সমস্যা নিয়ে এসেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। শত ব্যাস্ততার ভেতর আমার ও আমার পরিবারের কুশলাদী জেনে আমার আগমনে  হেতু জানতে চাইলেন। বিনয়ের সাথে সাংবাদিক হওয়ায় অভিপ্রায়  ব্যক্ত করলাম। তিনি এ সংক্রান্ত সার্বিক সহযোগিতা কারবেন এই মর্মে আশ^স্ত করলেন। শুরু হল আমার সাংবাদিক জীবনের যাত্রা। দীর্ঘ সাংবাদিকতায় আমি যখন ঠেকেছি ওনার কাছ থেকে ততবার শেখেছি। প্রভাব শালী পত্রিকার সাংবাদিক হওয়ার সত্বেও তিনি ছিলেন নির অহংকার মানুষ। চাল চলনে কখনো দাম্ভিকতা ছিলো না, ডাঃ কাওছার হোসেন ভিতর কোন ক্লান্তি ছিলো না। সব সময় হাসি মুখে চলা  ফিরা করতেন। তিনি ছিলেন একজন সফল মানুষ। বর্নাঢ্য জীবনে তিনি ডাক্তার, সাংবাদিক বাদেও জন ভোটে কায়েক বার ভেড়ামারা পৌরসভা কমিশনার পদে জয়যুক্ত হন। তার দুরদর্শিতা জ্ঞানের কারণে ভেড়ামারা পৌরসভা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার দুরদর্শির্তা জ্ঞানের কারণে ভেড়ামারা পৌরসভায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার সান্নিধ্য পেয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দৈনিক করতোয়া, বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক রঙ্গিন পত্রিকা লাল সবুজ, সেই সময়ের প্রভাব শালী পত্রিকা দৈনিক রুপালী, দৈনিক মাবন জমিন, কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক কুষ্টিয়া ও দৈনিক সময়ের কাগজে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করার সাহস পেয়ে ছিলাম। তিনি ছিলেন আমার অনুপ্রেরনা উৎস্য। রাত বিরিত যখন তার কাছে গেছি তিনি বিপদে সাহস যুগিয়াছেন। আমার সুসময়ে তিনি আনন্দ ভাগভাগি করে নিয়েছেন। ভেড়ামারা বাসি যানেন ওনি বিপদে মানুষের কতো আপন। যেহেতু সাংবাদিকতা বাদে তিনি ছিলেন একজন সুনামধন্য ডাক্তার, শহরের প্রাণকেন্দ্র বাড়ী ও চেম্বার হওয়ায় রাত বিরেতে আস্থার সাথে বিপদে পড়া রোগীগুলো তার কাছে যেতেন। আমি সাংবাদিকতার সাথে সাথে বিভিন্ন ব্যবসায় সাথে জড়িয়ে পড়ি। কিন্তু কোন ব্যবসাতে তেমন ভালো করতে পারছিলাম না। যদিও আমি জেনারেললাইনে পড়াশুনা করেছি। অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল প্রফেশনাল কোর্স করা ছিল। বন্ধুবর রেনেটা ফার্মার আশফাকুর রহমান এস কে এফের মাহাবুব রশিদের চাপা চাপিতে ব্যবসার গতি পরিবর্তন করে ঔষুধ ব্যবসায়ী জড়িয়ে পড়ি। ঐ সময়ে ডাঃ এ কে এম কাওছার হোসেনের মূল্যবার পরামের্শ আজকের এই আমি। ০২ অক্টোবর ২০২১ সালে আমাদের একা ছেড়ে তিনি নিজ বাসভবনে চির বিদায় নেন। হয়ে পড়ি অভিভাবক হীন
পরিশেষে আল্লাহর পাকের দরপারে প্রার্থনা জনাব ডাঃ এ কে এম কাওছার হোসেন ওপারে ভালো থাকেন। আমিন-।  
 

Post a Comment

Previous Post Next Post