২ দিনে কলেজ ছাত্র-ছাত্রী, স্কুল ছাত্র ও গৃহবধুসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ ॥ কুষ্টিয়া জেলায় ২ দিনে কলেজ ছাত্র-ছাত্রী, স্কুল ছাত্র ও গৃহবধুসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা আইন  শৃংখলা অবনতির দিকে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের দহকুলা গ্রামের মাঠ থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার স্থানীয় চাষিদের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের নাম জীবন (১৭)। তিনি দহকুলার বাজারপাড়ার এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। নিহত যুবক জীবনের মামা রুহুল আমিন বলেন, ‘জীবন খুব ভালো ছেলে ছিল। তার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। গতবার দহকুলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যায় সে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। অনেক রাত পর্যন্ত বাড়ি ফিরে না এলে বিভিন্ন জায়গায় তাকে খোঁজা হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে দেখি মাঠে মোটরসাইকেলের পাশে জীবনের মরদেহ পড়ে রয়েছে।
অপর দিকে, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের মেধাবী ছাত্র লিটন প্রফেসার পাড়াস্থ ভাড়াবাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। লিটন দৌলতপুর থানার ঝাউদিয়া গ্রামের শফির ছেলে। ভেড়ামারা প্রফেসর পাড়ায় মায়ের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতেন। লিটন ভেড়ামারা সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। লিটন সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে তা জানা যায়নি এখনো। বৃহস্পতিবার সকালে ভেড়ামারা থানা পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অপর দিকে, কুষ্টিয়া শহরের বাবরআলী গেট এলাকার একটি ছাত্রীনিবাস থেকে বুধবার সকালে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মারা যাওয়া শিক্ষার্থীর নাম জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌ (১৮)। তিনি মেহেরপুর গাংনী উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের মেয়ে। জান্নাতুল উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছিলেন। বাবরআলী গেট এলাকায় এমএম টাওয়ার ছাত্রীনিবাসের চারতলায় একটি কক্ষে তিনি একা থাকতেন। ওই ছাত্রীনিবাসে অন্তত ৫০ জন ছাত্রী বাস করেন। দীপ্তি খাতুন বলেন, এরপর ঘরের প্লাস্টিকের দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখতে পান তাঁর লাশ গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় বৈদ্যুতিক পাখা লাগানোর হুকের সঙ্গে ঝুলছে। এরপর বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল করে জানানো হয়। কুষ্টিয়া মডেল থানা-পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। লাশের পাশ থেকে পুলিশ একটি চিঠি উদ্ধার করেছে। তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, জান্নাতুল আত্মহত্যা করেছেন।
অপর দিকে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শিতলাইপাড়া চন্ডিপুরের সিরাজুল ইসলামের মেহেগুনি বাগান থেকে গৃহকর্মী মঞ্জিরা খাতুনের (৩৬) লাশ উদ্ধার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। রিফায়েতপুর ইউনিয়নের শিতলাইপাড়া গ্রামের মিনহাজের স্ত্রী মঞ্জিরা কাজ করতেন দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও ঠিকাদার ছাদেকুজ্জামান খান সুমনের মাস্টারপাড়ার বাসভবনে। থাকতেনও সেখানে। বিষয়টিকে ওসি'র কাছে সুইসাইড মনে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশ্ন ছাড়াই অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দেন, তার স্বামীকে একটু অসুস্থ মনে হয়েছে।
 

Post a Comment

Previous Post Next Post