Header Ads

ভেড়ামারায় জমজমাট এখন ঈদবাজার

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ক্রেতার ভিড়ে জমজমাট এখন ঈদবাজার। দেখা দিয়েছে পোশাকের সংকট। ঢাকা নিউমার্কেট থেকে তাঁদের পোশাক আসত। পোশাক না আসায় সংকটের কারণে বেড়েছে পোশাকের দাম। পোশাকের দোকান ছাড়াও উপজেলার ছোট বড় সব মার্কেট এবং দোকানে ক্রেতাদের ভিড় প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে মার্কেট কমিটির সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তার তদারকিতে রয়েছে।
ভেড়ামারা শহরে মার্কেট গুলো নানা রঙের বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। এসব বিপণি বিতানে পাওয়া যাচ্ছে লেহেঙ্গা, স্কার্ট টপস, থ্রি-পিস, জিনস প্যান্ট, টি-শার্ট, শাড়ির মধ্যে বেনারসি, কাতান ও জামদানি সিল্ক। ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়া, জিনস প্যান্ট ও বিভিন্ন ডিজাইনের সেন্ডেল। এ ছাড়াও বাচ্চাদের জন্য রয়েছে হরেক ডিজাইনের পোশাক।
সাতকাহনের মালিক ফয়জুল ইসলাম মিলন বলেন, নিউমার্কেট থেকে তৈরি পোশাক নিয়ে আসতাম। সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা পোশাক পাইনি। এতে প্রচুর ক্ষতি হয়ে গেল। অন্য জায়গা থেকেও পোশাক পাচ্ছি না। যদিও কিছু পাচ্ছি, কিন্তু দাম গতবারের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি। বিক্রি করলেও লাভ থাকছে কম। এ সময় পর্যাপ্ত পোশাক পেলে দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারতাম। কারণ এবার ফসল ভালো হওয়ায় গ্রামের মানুষের কাছে পোশাক কেনার মতো টাকা রয়েছে।
মোশারফ হোসেন বলেন, গেল দুই ঈদে করোনা ছিল। এবার বেচা-বিক্রি অনেক ভালো। পোশাকের দাম বেশি হলেও দিন শেষে পোশাক কিনছেন ক্রেতারা। অন্যান্য পণ্যের মতো এবার পোশাকের দাম বেড়েছে। এরপরও আমরা ঢাকাতে গিয়ে পোশাক পাচ্ছি না। অর্ডার অনুযায়ী পাচ্ছি না। সীমিত পোশাক পেয়েছি, তাও দাম বেশি। ক্রেতারা শুনে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে দাম বেশি হলেও কিনছেন। কারণ বাজারে পোশাকের স্বল্পতা রয়েছে।
কসমেটিকস ব্যাবসায় হাসান আলী বলেন, ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। পণ্যের দাম গত ঈদের থেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি। প্রয়োজনের তুলনায় অল্প নিচ্ছেন ক্রেতারা।
পোশাক কিনতে আসা হাবিব বলেন, আমার বন্ধুরা কয়েক দিন আগে প্যান্ট, জামা ও টিশার্ট কিনেছেন। তাঁদের নিয়ে কিনতে এসে দেখছি, এ ধরনের পোশাক আর নেই। যদিও এক দোকানে পেলাম, কিন্তু দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই কিনলাম।
ইমরান হোসেন বলেন, পোশাক পছন্দ হচ্ছে, কিন্তু দাম অনেক বেশি। এরপর ছেলে-মেয়েদের মাপের পোশাক পাচ্ছি না। দুদিন ঘুরে শুধুমাত্র জুতা কিনেছি। মনে হচ্ছে, দেরি হলে বাচ্চাদের পোশাক আর পাওয়া যাবে না। প্রতিটি দোকানে পোশাক সংকট রয়েছে।
রেল বাজার বনিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ বলেন, ঈদবাজার পুরোদমে জমে উঠেছে। বর্তমানে অনেক ক্রেতা। জিনিসপত্রের দাম এবার খুবই বেশি। পর্যাপ্ত পোশাক নেই দোকানে।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, সব সময় পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে। কয়েক স্তরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বিঘ্নে ঈদের কেনাকাটাসহ সুন্দর পরিবেশে ঈদ উদ্যাপন উপহার দিতে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
 

No comments

Powered by Blogger.