Header Ads

ভেড়ামারায় সেচযন্ত্র লুট ॥ সেচ সঙ্কটে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দুইশত বিঘা ধানের খেত

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল ॥
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা চাঁদগ্রামে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটনার জের ধরে বাড়িঘর লুটপাটের পর দূর্বৃত্তরা চরপাড়া মাঠের সমস্ত সেচযন্ত্র লুটসহ বোরিং পাইপ নষ্ট করে দিয়েছে। এরপর থেকে ধান খেতে সেচের অভাবে  বিরুপ প্রভাব পড়েছে সদ্য রোপণকৃত দুইশো বিঘার বোরো ধানের আবাদে। পানি না পেয়ে জমি শুকিয়ে ধানের চারা গাছ মাঠেই মারা যাচ্ছে। সেচযন্ত্র লুটের ঘটনায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন চাঁদগ্রাম চরপাড়ার মাঠের কয়েকশত কৃষক। তবে এখন পর্যন্ত  কোন প্রতিকার না পেয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন ধান চাষীরা।
ভুক্তভোগী কৃষকের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রামে  অর্ধ শতাব্দি ধরে মণ্ডল ও মালিথা বংশের গোষ্ঠীগত বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি’২২ মণ্ডল বংশের সিদ্দিকুর রহমান মণ্ডল দূর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়। হত্যাকাণ্ড ও দায়েরকৃত মামলা হলে এলাকা পুরুষশূণ্য হয়ে যায়।
এ সুযোগে মালিথা ও প্রামানিক বংশের বাড়ি ঘরে হামলা, লুটপাট শুরু করে একদল দূর্বৃত্ত। পরবর্তীতে উঠতি ফসল লুট ও তসরুপ করা হয়। কিছুদিন আগে ধান চাষের জন্য ২০ থেকে ২৫টি সেচযন্ত্র লুট করে নিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা। এতে চরপাড়া মাঠের প্রায় দুইশো বিঘা জমির বোরো ধান সেচের অভাবে  ধানের জমির মাটি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধান গাছের চারা শুকিয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখনই সেচ দিতে না পারলে প্রায় ২শত বিঘা জমির ধান খেত নষ্ট হলে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে চাষিরা । এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।
এবিষয়ে ওই মাঠের কৃষক শামিম মালিথা, খলিল, খালেক, জলিল ওবায়দুল ও আজলসহ অনেকের পরিবার জানায়, ২০-২৫ টি সেচযন্ত্র লুট করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষরা। নষ্ট করে দিয়ে যায় মাটির ভেতর সেচের বোরিং পাইপ। এখন ওই মাঠে সেচযন্ত্র না থাকায় প্রায় দুইশো বিঘা ধানের জমিতে পানি দিতে পারছে না। প্রতিপক্ষের পরিচিতদের পানি সরবরাহ না করতে নিষেধ করাই তারাও পানি দিচ্ছে না। রোপণকৃত ধান খেতের চারা মারা গেলে  প্রচুর পরিমাণ ক্ষতি হয়ে যাবে। বখাদ্য সঙ্কট সৃষ্টি হবে। পরিবারের লোকজন না খেয়ে থাকবে বলে জানান তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, খুনের ঘটনার পর মালিথা বংশের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও সম্পদ লুটপাট হয়েছে। এখন ফসল ক্ষতি করা হচ্ছে। এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও পুলিশের কঠোর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
কৃষক শামিম মালিথার স্ত্রী রোজিনা খাতুন বলেন, সেচযন্ত্র লুটের পর প্রায় দুইশো বিঘা ধানের জমিতে সেচ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সময়মত সেচ না দিতে পারলে ধান, গম, সবজি পেয়ারা বাগানসহ অন্যান্য ফসলের চরম ক্ষতি হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, পাকা গম কাটতে গেলে হুমকি দিচ্ছে। জোর করে গম কেটে নেওয়াসহ পেয়ারা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বাড়িতে বা মাঠে গেলে ধর্ষণ ও হত্যার অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াছির আরাফাত বলেন, সেচযন্ত্র  চুরির বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওখানে পুলিশ নিয়মিত ডিউটি দিয়ে যাচ্ছে। ফসলের প্রকৃত মালিকরা ফসল কাটলে তাদের  নিরাপত্তা দিয়ে সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের চাঁদগ্রাম মধ্যপাড়া গ্রামে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বংশগত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতা ও মণ্ডল বংশের সিদ্দিকুর রহমান মণ্ডল নিহত হন।
এরপর থেকেই মালিথা ও প্রামানিক বংশের বাড়ি-ঘরে হামলা-ভাঙচুর,  বাড়ি-ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র, টিভি-ফ্রিজ, স্টিলের আলমারি থেকে শুরু করে গৃহস্থালি সরঞ্জামাদি, বাড়ির গবাদি পশু, ঘরের টিন, স্টিলের দরজা-জানালা, মাঠে কৃষিকাজের জন্য স্থাপিত সেচপাম্প, ফলের বাগান, পুকুরের মাছ লুটপাট করার অভিযোগ উঠে। এসব বিষয়ে থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।

No comments

Powered by Blogger.