Random Posts

অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে মরণফাঁদ

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল ॥
কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকার রেললাইনের ওপর দিয়ে তৈরি হওয়া অধিকাংশ সড়কপথে নেই গেট এবং গেটম্যান। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার অভাব ও অসচেতনতায় এসব রেলপথ এখন মরণফাঁদ। আর এসব রেলক্রসিং পারাপারের সময় প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলেও এসব রেলক্রসিংয়ে গেট স্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব বিষয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ থেকে হালসা এবং পোড়াদহ থেকে খোকসা পর্যন্ত প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। আর এই রেলপথে ছোট-বড় মিলিয়ে অর্ধশতাধিক রেললাইনের ওপর দিয়ে চলাচলের কাজে ব্যবহৃত পাকা সড়কপথ আছে। এর মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি রেলক্রসিংয়ে গেট এবং গেটম্যান থাকলেও বাকিগুলো সম্পূর্ণ অরক্ষিত। আর এসব অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে মাঝেমধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা।
সূত্রে আরও জানা যায়, গত বছরের শুরুতে কুষ্টিয়ার কাঠদহচর এলাকায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি গাড়ি উঠে পড়ে অরক্ষিত রেললাইন। তখন খুলনা থেকে ছেড়ে আসা মধুমতী এক্সপ্রেস ট্রেন ধাক্কা দেয় গাড়িটিকে। এতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় সেটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই শ্রমিক। ওই স্থানে রেলক্রসিংয়ের কোনো গেট এবং গেটম্যান না থাকার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। সে সময় এলাকাবাসী দুর্ঘটনাস্থলে রেলগেট স্থাপনের দাবি জানালেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।
কিছু কিছু রেলক্রসিং এলাকায় চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ লিখে একটি সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে সব দায় শেষ করে রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ। চলাচলে নিষেধ থাকলেও সেসব ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে পাকা সড়ক করে দিয়েছে সড়ক বিভাগ। এমন একটি রেলক্রসিং মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গেটপাড়া গ্রামে। গ্রামের মানুষের শহরে যাওয়ার একমাত্র সড়কপথে এই রেলক্রসিংটি। বড় কোনো যান এখান দিয়ে চলাচল না করলেও নছিমন, করিমন, অটোরিকশা ও ছোট ট্রাকসহ দিনে অনেক যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এই রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো গেট বা গেটম্যান। শুধু সামনে রেলগেট চলাচল নিষিদ্ধ’-এমন একটি ভাঙাচোরা, অস্পষ্ট সাইনবোর্ড রয়েছে।
হাফিজুর রহমান বলেন, এ জায়গা দিয়ে আমরা প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি। একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক এটি, প্রতিদিন শত শত মানুষ এ সড়কে চলাচল করে। কিন্তু এখানে কোনো রেলগেট নেই। রাস্তার ওপর রেল কর্তৃপক্ষ সাইনবোর্ড লিখে রেখেছে চলাচল নিষেধ, আবার সড়ক বিভাগ সেই সড়ক পাকা করে দিয়েছে চলাচলের জন্য। এটা সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছুই না।’
একই উপজেলার ধুবাইল গেটপাড়া এলাকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। এখানে রেলক্রসিংয়ের সড়কটির দুই পাশে এত ঢালু যে এক পাশ থেকে আরেক পাশের কোনো কিছুই দেখা যায় না। সেই সঙ্গে সড়ক থেকে রেললাইনের একেবারে কাছে না আসা পর্যন্ত ট্রেন আসছে কি না, সেটাও দেখা যায় না। গত এক মাসে এ স্থানেই ঘটেছে কমপক্ষে তিনটি দুর্ঘটনা।
সামছুল ইসলাম বলেন, এখানে মাঝেমধ্যেই দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় পথচারী আহত হয়। বেশ কয়েকবার প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া ভ্যান, সাইকেলসহ বেশ কিছু ছোটখাটো যান ট্রেনের নিচে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এসব বিষয়ে আমরা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েও লাভ হয়নি।
এসব বিষয়ে মিরপুর স্টেশন মাস্টার বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আওতাবদ্ধ বা ট্রাফিকিং ব্যবস্থার মধ্যে থাকা রেলক্রসিংগুলোতে গেটসহ গেটম্যান নিয়োগ আছে। এর বাইরেও অনেক জায়গায় অরক্ষিত রেলক্রসিং আছে এবং অনেক জায়গায় নতুন সড়ক নির্মাণের কারণে নতুন নতুন ক্রসিং তৈরি হচ্ছে। তবে সেসব স্থানে রেলগেট অথবা গেটম্যান নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো কিছুই জানা নেই। তবে গুরুত্ব বিবেচনায় কিছু এলাকায় গেটসহ গেটম্যান দেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী অঞ্চলের ডিআরএম-১ বীরবল মণ্ডল বলেন, এ অবৈধ রেলক্রসিংয়ের জন্য যেসব সড়ক দায়ী, সেই ক্রসিংগুলো একটাও রেলের সৃষ্টি না। এগুলো সড়ক উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করে থাকে। এরপরও দ্বিপক্ষীয়ভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। যেসব গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং আছে, সেগুলোর বৈধতা দেওয়ার জন্য আমরা চিন্তাভাবনা করছি।

Post a Comment

0 Comments