Header Ads

লালন আঁখড়াবাড়ীতে পূণ্য সেবায় ভাঙলো সাধু সঙ্গ

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ পূণ্য সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালীর লালন আঁখড়াবাড়ীতে চলা সাধুদের সঙ্গ। সেবা শেষে সাধু ও লালন অনুসারীরা চলে যাচ্ছেন তাদের নিজস্ব আশ্রমে।
ইতোমধ্যে খেলাফতধারী সাধুরা ত্যাগ করেছেন আঁখড়াবাড়ী। মানববতার বাণী নিয়ে নিজ নিজ আশ্রমে প্রচার করবেন তারা। বৃহত এ সাধুদের মিলন মেলা বসবে আবার লালন তিরোধান দিবসে। শুক্রবার (১৮ মার্চ) দুপুরে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ১০ হাজার সাধুদের দুপুরের সেবা দেওয়া হয়।
লালন মাজার প্রাঙ্গণ, লালন আঁখড়াবাড়ীতে অবস্থানরত সাধুদের একসঙ্গে দেওয়া হয় দুপুরের খাবার বা সেবা। এর মধ্যে ছিল সিদ্ধ চালের সাদা ভাত, রুই মাছ, কলাইয়ের ডাল, আলুর সবজি ও দই।
দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ তার জীবনদশায় তার অনুসারীদের নিয়ে সাধু সঙ্গ করতেন। শোনাতেন মানবতার বাণী। সেই অনুসারে সাধু-ভক্তদের নিয়ে লালন একাডেমি লালন আঁখড়াবাড়ীতে এ আয়োজন করে আসছে।
এবারে পবিত্র শবে বরাতের কারণে একদিন আগে শুরু হয় লালন মেলা। সাধু সঙ্গের একদিন আগেই শেষ হয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ লালন মেলার। তবে সাধুরা তাদের নিয়মনীতি অনুযায়ী দোল পূর্ণিমার রাতে মূল অধিবাস, সকালে বাল্য সেবা ও সাধু সঙ্গ শেষ হয় শুক্রবার দুপুরে পূণ্য সেবার মধ্য দিয়ে।
ফকির আসাদ বলেন, সাঁইজির বাণী নিয়ে ফিরে যাচ্ছি আপন ধামে। এখানে আবার আসবো তিরোধান দিবসে। আমরা সাধু ফকিররা আশায় থাকি কবে আসবে আবার এই দিন। যেখানে সাধু ভক্তরা একসঙ্গে সাঁইজির বাণী শুনবো।
ফকির নহির শাহ বলেন, এই বিদায়ের মুহূর্তটা আমাদের কাছে সব চাইতে কষ্টের সময়। এই আশ্রম ছেড়ে আমাদের যেতে ইচ্ছা করে না।
দাউদ আলী শাহ বলেন, লালনের বাণী যদি আমরা সকলে অনুসরণ করি তাহলে সমাজ থেকে মারামারি-হানাহানি, অন্যায় অত্যাচার দূর হয়ে শান্তি বিরাজ করবে। যা জগতের সকল প্রাণির জন্যই মঙ্গলকর। মানুষের সবচেয়ে বড় হলো মানব সেবা। মানুষের সেবার কথায় সাঁইজি তার গানে বলে গেছেন।

No comments

Powered by Blogger.