Header Ads

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ ॥ আহত ৩৫

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জনকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সোমবার দফায় দফায় কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের সান্দিয়ারা বাজার ও বশীগ্রাম সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জাহিদ হোসেনের সঙ্গে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমানের বিরোধ চলছে। পান্টির ডাঁসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সামিউর সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। নির্বাচনে জয়ী গোলাম নবী সান্দিয়ারা বাজারে জাহিদ হোসেনের সমর্থক শরিফুল ইসলামকে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তখন শরিফুলের লোকজন গোলাম নবীকে পিটিয়ে আহত করেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সান্দিয়ারা বাজার ও বশীগ্রাম সেতু এলাকায় দফায় দফায় রামদা, ঢাল, সড়কি, লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হন।
জাহিদ হোসেন বলেন, স্কুলের নির্বাচন ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে। আমি এলাকার বাইরে আছি। তবে উভয় পক্ষই আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থক।
এ বিষয়ে সামিউর রহমান বলেন, নির্বাচনে আমার প্যানেল জয়লাভ করে। জয়ী গোলাম নবী সান্দিয়ারা বাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গোলাম নবী, হৃদয়, হাসান, মহব্বত, টিপুসহ ১০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
জাহিদ হোসেনের সমর্থক শরিফুল ইসলাম বলেন, সামিউরের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে কটূক্তি করেন। তাঁরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেন। তখন আমাদের লোকজন তা প্রতিহত করেন। এ ঘটনায় আমাদের প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কিছু ঘরবাড়ি, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
 

No comments

Powered by Blogger.