কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান হাসান ফয়েজ প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তার নিয়োগবিষয়ক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শপথ পড়াবেন। এর মধ্য দিয়েই দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হতে যাচ্ছেন তিনি।
চলতি বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হলেও ওইদিন শুক্রবার হওয়ায় একদিন আগেই অবসরে যাচ্ছেন তিনি।
সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ করিবেন।’ অর্থাৎ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। তবে দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেবেন, তার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে প্রথমে আইন মন্ত্রণালয়কে জানাবেন।
আবদুর গফুর মোল্লা ও নূরজাহান বেগম দম্পতির সন্তান হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৭২ সালে কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। আইএসসি পাস করেন ১৯৭৪ সালে সাতক্ষীরার সরকারি পিসি কলেজ থেকে। এরপর বিএ পাস করেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে। আর এমএ পাস করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে। পরবর্তীতে ধানমন্ডি ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাস করেন।
এরপর ১৯৮১ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় যোগ দেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট ডিভিশনের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার বড় ভাই বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী আপিল বিভাগের বিচারপতি থেকে অবসরে গিয়েছেন।
বর্তমানে আপিল বিভাগে পাঁচ বিচারকের মধ্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে গেলে বাকি থাকবেন বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ননী ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র অনুযায়ী, বিচারপতি মুহাম্মদ ঈমান আলী ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ২০২৩ সালের ৩০ জুন এবং বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি অবসরে যাবেন।

Post a Comment

0 Comments