ভেড়ামারায় মৎস্য চাষি দানেজ হত্যা ॥ বিচারের দাবিতে লাশ নিয়ে মানববন্ধন-বিক্ষোভ




চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রতিপক্ষের হামলায় দানেজ আলী (৫৬) নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে মরদেহ সামনে রেখে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। রোববার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভেড়ামারা শহরের দাফনের আগে তার লাশ সামনে রেখে শত-শত নারী মানুষের উপস্থিতিতে ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় তারা মাছচাষি দানেজ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
বক্তরা বলেন, আমরা খুনিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। বিলশুকা গ্রামের মাঠে দানেজ আলীকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। মানববন্ধনে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় দানেজ আলীর মৃত্যু হয়। কয়েক মাস ধরে পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে দানেজ আলীর বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খুনিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর যে কোনো ঘটনা প্রতিরোধে ওই এলাকায় পুলিশ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেলের দিকে দানেজ আলী বিলশুকা গ্রামের মাঠে নিজের গম ক্ষেতে গেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারপিট করে পালিয়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হয় দানেজ আলী। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জিয়াউল ইসলাম জিয়া (৪০)সহ  লিপন প্রামানিক (৩২), রবিউল ইসলাম রবুল (৪৩), শাহিন প্রামানিক (৩৬), সুজন প্রামানিক (৩৮),শ্যামল প্রামানিক (২৮), আছান প্রামানিক (৪৮), শিমুল প্রামানিক (২৬), সাগর (২৫), সুলতান (৩২)। ১০ জনকে আসামি করে গত শুক্রবার রাতে ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং-১১ তাং ১৭-১২-২০২১ ইং। এ ঘটনায় নিহত দানেজ আলীর ছেলে স্বপন আলী ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান এলাকাবাসীর।
নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী উজ্জ্বল বলেন, দুই মাস আগে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের পুকুরে মাছ লুটপাট করতে আসছিল। বাধা দেওয়ায় সেসময় তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাদের কয়েকজনকে আহত করেছিল। এবার মাঠে আমার বাবাকে একা পেয়ে হত্যা করল। তারা এলাকায় সন্ত্রাসী কাজ করে থাকে। আমার বাবাকে হত্যায় যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

Post a Comment

Previous Post Next Post