বাদশা হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বাদশা হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেওয়া হয়েছে।  
রোববার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ আবু তাহের এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার উজানগ্রাম এলাকার পশ্চিমপাড়ার মৃত ইশারত মণ্ডলের ছেলে আইয়ুব আলী (৫৮) এবং একই উপজেলার গজনবীপুর গ্রামের ওয়াহেদ মণ্ডলের ছেলে স্বপন আলী (৩২)। এ মামলায় ১১ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার উজানগ্রাম ইউনিয়নের গজনবীপুর গ্রামের মনোহার আলীর ছেলে বাদশা ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হয়। তার পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে পায় না। পরে ১৯ এপ্রিল সকালে পার্শ্ববর্তী চাপাইগাছি বিল এলাকায় ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে একটি যুবকের লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বাদশার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদশার লাশ বলে নিশ্চিত করে।
খবর পেয়ে ইবি থানা পুলিশ বাদশার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠান। আসামিরা বাদশাকে মারপিট ও অস্ত্রের আঘাতে মুখ-মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম করে হত্যা করে। এ ঘটনায় ১৯ এপ্রিল নিহত বাদশার বড় ভাই মিনাজ মন্ডল ইবি থানায় মামলা করে।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ১২ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত ধার্য তারিখে আদালতের বিচারক মামলার দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এ রায় দেন। আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার পর পরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী বলেন, যুবককে হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আইয়ুব ও স্বপন নামের দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ মামলায় ১১ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post