ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, শয্যা ও চিকিৎসা সামগ্রী, না থাকায় মানুষ সঠিক সময়ে সুষ্ঠু স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদই শুন্য পড়ে রয়েছে।
জানা গেছে, হাসপাতালে শিশু বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে এ বিভাগের চিকিৎসাসেবা। ফলে চিকিৎসায় সুফল পাচ্ছেন না শিশুরা। এছাড়াও  হাসপাতালে অ্যানেসথেসিয়া না থাকায় অস্ত্রোপচার, সাধারণ ডেলিভারি করা হচ্ছে না। এখানে গাইনি বিভাগে কোনো চিকিৎসক  না থাকায় রোগীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও চিকিৎসা সেবা নিতে দৌড়াতে হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ও জেলা হাসপাতালে।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হলে ৫০ শয্যার হাসপাতাল কে একশ শয্যায় উন্নতি ও শুন্য পদসহ পর্যাপ্ত  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী  সংযোজন  করা একান্ত জরুরি  বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীসহ সেবা গ্রহীতারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, ২৭ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ১০ জন চিকিৎসক রয়েছে।  বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসকের মধ্যে  অর্থোপেডিক ছাড়া বাকী সব পদ শুন্য রয়েছে দীর্ঘদিন।অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক  তাও সপ্তাহে দুদিন এ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন।
গাইনি, অ্যানেসথেসিয়া না থাকায় সার্জারি বন্ধ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় শিশুদের চিকিৎসা সেবাও বন্ধ।  গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি পদের চিকিৎসকসহ   সার্জারি, মেডিসিন , শিশু, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক কান গলা ও কার্ডিওলজিস, এক কথায় সবগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ১৭ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে।
এ পদ গুলো খালি পড়ে  থাকার ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  
এছাড়াও বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সরকারি স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সেবা কেন্দ্রে  তৃতীয় ও চতুর্থ শেণির কর্মচারীদের অধিকাংশ পদ খালি পড়ে রয়েছে।
আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ১০ জন চিকিৎসকের মধ্যে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও করোনা ও ইপিআর নিয়ে কাজ করেন আরও একজন। ডেন্টাল বিভাগ ও আলট্রা বিভাগে ১ জন করে চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি বিভাগে কাজ করেন তিনজন চিকিৎসক। বাকী দুই চিকিৎসক আউটডোরে নিয়মিত রোগী দেখেন।  আউটডোরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন অন্যান্য দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা। তাদের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা শত শত রোগীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। কর্মরত চিকিৎসকদেরও রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এমন চিত্র এখন প্রতিদিনের।
বাহাদুরপুরের হাবিব বলেন, আমার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ব্যথা উঠলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর জানতে পারি এই বিভাগের চিকিৎসক নেই। ফিরে আবার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছেন বলে তিনি  অভিযোগ করেন।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা সাবিনা বলেন, ডাক্তার দেখাতে  এসেছি সকাল ৯টায়, ১২ টা পর্যন্ত  দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তারপর দেখাতে পেরেছি।
হাবিবা তাঁর দুই বছরের শিশু সন্তানকে হাসপাতালে থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায়।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল আমিন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপে একটিও বেড ও কেবিন,খালি নেই। তাও স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে। আর জরুরী বিভাগে চলছে নন স্টপসার্ভিস। উপজেলার আড়াই লাখ মানুষকে  স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হলে  শুন্য পদে  জনবল নিয়োগ সহ হাসপাতালটি ৫০ বেড থেকে বাড়িয়ে একশতে উন্নীত করা।  জনবলের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টি ইতিমধ্যে লিখিত আকারে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments