গড়াই নদী থেকে গর্ভবতী রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদীর পানিতে খড়ের সঙ্গে ভেসে আসে রাসেল ভাইপার নামে বিষধর সাপ। সাপটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক যুবক মাছ ধরা জাল দিয়ে উদ্ধার করে। পরে বিরল প্রকৃতির এ সাপ দেখতে ভিড় জমায় এলাকাবাসী। রোববার গড়াই নদীর দুর্গম চরে গর্ভবতী ওই সাপটিকে বন বিভাগের সহায়তায় অবমুক্ত করে স্থানীয়রা।
এর আগে, মাছ ধরার সময় গত বুধবার গড়াই নদীতে খড়ের সঙ্গে ভাসমান অবস্থায় দেখে সাপটিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া শহরতলীর মঙ্গলবাড়িয়া এলাকার মৃদুল শেখ।
স্থানীয় প্রকৃতি প্রেমী শাহাবুদ্দিন জানান, প্রায় পাঁচ ফিট লম্বা এই সাপটিকে অন্যান্য সাপের থেকে ব্যতিক্রম মনে হওয়ায় মৃদুল সাপটিকে বালতিতে ভরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সাপটি পেটে বাচ্চা থাকায় তেমন একটা নড়া-চড়া করছিল না। ব্যতিক্রমী এই সাপ উদ্ধারের খবর লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লে এক নজর সাপটিকে দেখার জন্য তার বাড়িতে এলাকাবাসীরা ভিড় করতে থাকে।
কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, বিষয়টি জানতে পেরে লোকজন নিয়ে জেলে মৃদুল শেখের বাড়িতে যায়। পরে সাপটিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ার দুর্গম চরে অবমুক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে সম্প্রতি বন্যার কারণে ভারত থেকে সাপটি ভেসে এসেছে।
গত এক সপ্তাহ আগেও কুষ্টিয়ার কুমারখালী এলাকার ছেঁউড়িয়ায় একজন জেলে গড়াই নদীতে মাছ ধরার সময় তার জালে আরেকটি রাসেল ভাইপার সাপ ধরা পড়েছিল বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সাপ সাধারণত ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে রাসেল ভাইপার ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি বাচ্চা দেয়। এরা বছরের যেকোনো সময় প্রজনন করে। একটি স্ত্রী সাপ গর্ভধারণ শেষে ২০-৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে কোনো কোনো রাসেল ভাইপার ৭৫টি পর্যন্ত বাচ্চা দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। 

Post a Comment

0 Comments