অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত-১৫

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে সোমবার পর্যন্ত অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে শিশুসহ অন্তত ১৫জন। আক্রান্তরা নিজ নিজ বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে এ রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ৮ দিন আগে রহিম হোসেনের একটি অসুস্থ গরু জবাই করে স্থানীয়দের মাঝে মাংস বিক্রয় করা হয়। ওই গরুর মাংস খাওয়ার পর ফকির মন্ডলের ছেলে সজিব (২৮), সিরাজুল ইসলামের ছেলে নমাজ (২৯), নয়ন আলীর ছেলে রমজান আলী (৪৮) মতিয়ার রহমানের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৪৫), মনিরুল ইসলামের স্ত্রী সুজিনা খাতুন (৪২), মৃত শাহ মোহাম্মদের ছেলে বাবুল হোসেন (৬৫) ও ডাবলুর শিশু ছেলে সাব্বির (১২) সহ অনন্ত ১৫জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ অবস্থায় তাদের হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত বা ঘা দেখা দেয়। আক্রান্তরা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা নিশ্চিত করেন এটা অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ। পরে তারা স্থানীয় চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসা নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতেই রয়েছেন বলে আক্রান্ত পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। এদিকে প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মো. আব্দুল মালেক জানান, উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে কিছু গরু তড়কা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পেয়ে গত সপ্তাহ থেকে ওই এলাকার পশুগুলোকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত পশুর স্যাম্পল ল্যাবটেষ্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। একইসাথে এ রোগ যাতে বিস্তার না ঘটে সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কেউ আক্রান্ত হলে তাৎক্ষনিকভাবে চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন ডাঃ আব্দুল মালেক।

Post a Comment

0 Comments