খুনিদের ফাঁসি কার্যকরের খবর শোনার ইচ্ছা কুষ্টিয়ার মাহবুবের বাবা-মায়ের

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ টিনের তৈরি ঘরে শুয়ে আছেন হাসিনা বেগম। পাশে তাঁর স্বামী হারুন অর রশিদ। দুজনের শরীরেই বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। এই দম্পতির বড় ছেলে মাহবুবুর রশিদ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন। বৃদ্ধ মা-বাবা আজও ছেলের স্মৃতি ধারণ করে আছেন। ছেলে নিহত হওয়ার খবর শোনার পর মা-বাবার বুক কেঁপে উঠেছিল। তাঁদের বড় আশা, খুনিদের বিচারের রায় বাস্তবায়ন দেখে যেন মরতে পারেন।
মাহবুবের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামে। ২০০১ সালে সেনাবাহিনী থেকে তিনি অবসর নেন। কিছুদিন পরই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে যোগ দেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মাহবুব।
ফুলবাড়ি গ্রামে গেলে মৃদু স্বরে হাসিনা বেগম জানান, শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো না। বুক ধড়ফড় করে। আগস্ট মাস এলেই কষ্ট ও জ্বালা বেড়ে যায়। গ্রামের এই বাড়িতে মাহবুবের মা ও বাবা বাস করেন। মাহবুবের স্ত্রী ও দুই ছেলে ঢাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ফ্ল্যাটে বসবাস করেন।
বড় ছেলে মাহবুবুর রহমানই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সেই ছেলেকে হারিয়ে বাবা হারুন অর রশিদের দুঃখ বারো মাস। তবে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে গিয়ে জীবন চলে যাওয়ায় তিনি ছেলেকে শহীদ মনে করেন। তাই ছেলের সমাধিস্থল সংরক্ষণসহ সেখানে বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
করোনা পরিস্থিতির মধ্যে তাঁরা কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে জানান। প্রতিবছরের মতো এবারও ছেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে বাড়িতে মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করেন।
প্রতি মাসে ‘কল্যাণ ফান্ড’ থেকে যে টাকা দেওয়া হয়, তা দিয়ে দুজনের সংসার কোনোরকম চলে যায়। এ ছাড়া বাড়িতে গাভির দুধ বিক্রি করে ছেলের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য কিছু টাকা জমিয়ে রাখেন।

Post a Comment

0 Comments