কুষ্টিয়ার ৩টি উপজেলায় পানিবন্দি ৬০ হাজার মানুষ ॥ হার্ডিঞ্জ ব্রিজে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচে

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে শঙ্কা পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এই পয়েন্টে পানির বিপদ সীমার লেবেল ১৪ দশমিক ২৫। আজ শনিবার ১৪ দশমিক ২১ সেঃ মিটার ওয়াটার লেবেলে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই প্রবাহ পরিমাপে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টের বিপদ সীমা থেকে মাত্র ৪ মিটার দূরে রয়েছে।
পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর, মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার অন্তত ৫০টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
পাবনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উত্তরাঞ্চল পানি পরিমাপক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেন জানান,  হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে শনিবার ১৪ দশমিক ২১ মিটার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি পরিমাণের প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে।
পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর, মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার অন্তত ৪৫টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
দৌলতপুরে দুই ইউনিয়নের অন্তত ৩৭টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ফলে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টি গ্রাম এবং চিলমারী ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের দুই ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে। পানিবন্দী রয়েছে ওইসকল গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষ। এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে আমন ধান, পাটক্ষেত, মরিচক্ষেত, কলাবাগান ও পানের বরজসহ বিভিন্ন ধরণের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও পশু খাদ্য সংকট। কোমর অথবা হাটু পানির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে ওই সব গ্রামের মানুষের।
ভেড়ামারা বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসিকুর রহমান ছবি বলেন, গত চার দিন এসব ফসলি এলাকায় পানি ঢুকছে। বেশির ভাগ পানের বরজ ও কলা বাগান ডুবে বেশি ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পান চাষিদের ক্ষতি এদিকে উপজেলার বাহাদুরপুর, মালিপাড়া, গোসাই পাড়া, রায়টা, বাশেরদিয়ার, মাধবপুর, কৈগাড়িপাড়া কাজীপুরসহ অনেক এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। বাড়ি, ফসলের জমি ও ফসল ডুবে যাওয়ায় চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে রয়েছেন।
মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ও তালবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের বাড়ি, ফসলের জমি ও ফসল ডুবে যাওয়ায় চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে রয়েছেন। নিম্ম অঞ্চল গুলোর ফসল ডুবে গেছে। গত চার দিন এসব ফসলি এলাকায় পানি ঢুকছে।
কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি এ্যাড. আকাম সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ বন্যাকবলিত রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের পানিবন্দি গ্রামগুলো ঘুরে দেখেছেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজ শাহীন খসরু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়া, দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল, চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ ও মরিচা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, চরাঞ্চলের রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের মানুষের ত্রাণ সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments