লাশ কবরস্থানে নেওয়ার পথে হামলার অভিযোগ ॥ চারজন আহত

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে কবরস্থানে লাশ নেওয়ার পথে হামলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর জগন্নাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই মৃত ব্যক্তির তিন ছেলেসহ চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন চর জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত দানেজ মণ্ডলের ছেলে রমজান মণ্ডল (৫০), আমিরুল ইসলাম (৪০), আশরাফুল আলম (৩০) ও শাহিন আলম (৩০)। পরে পুলিশি পাহারায় লাশ দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা দানেজ মণ্ডলের প্রতিবেশী খলিল প্রামাণিক তাঁর ২৪ শতাংশ জমি খালেক প্রামাণিকের কাছে বিক্রি করেন। সে সময় একমাত্র মধ্যস্থতাকারী ছিলেন দানেজ মণ্ডল। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও সেই জমি রেজিস্ট্রি হয়নি। এর মধ্যে বার্ধক্যজনিত রোগে দানেজ মণ্ডল মারা যান।
দানেজের স্বজনেরা জানান, দানেজের লাশ দাফনের জন্য তাঁর ছেলে ও স্বজনেরা চর ভবানীপুর কবরস্থানের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা স্থানীয় মজিবর মণ্ডলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খালেক প্রামাণিক, কাদের সরদার, খালেক প্রামাণিকের ছেলে সোহেল প্রামাণিকসহ অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন অতর্কিত হামলা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।
আহত আশরাফুল আলম বলেন, তাঁরা তিন ভাই ও ভাতিজা সোহেল খাটিয়া কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় খালেক প্রামাণিকসহ তাঁর ভাই ও ছেলেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। পরে পুলিশ এসে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করে।
দানেজের ভাতিজা রবিউল ইসলাম জানান, ‘প্রায় ১৫ বছর আগে চাচা মধ্যস্থতাকারী হয়ে খলিলের ২৪ শতাংশ জমি খালেকের কাছে বিক্রি করেছিল। কিন্তু রেজিস্ট্রি হওয়ার আগেই চাচা মারা যান। সেই ক্ষোভে লাশ কবরস্থানে নেওয়ার সময় খালেক প্রামাণিকরা লাশের ওপর হামলা চালায়।’
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিব হাসান বলেন, মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির এলাকায় বেশ কিছু টাকাপয়সা দেনা ও জমিসংক্রান্ত বিরোধ আছে। টাকা পরিশোধ না করায় পাওনাদারেরা লাশ দাফনে বাধা দেন। এ নিয়ে ওই সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় লাশ দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Post a Comment

0 Comments