কুমারখালীতে আ.লীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ১৫, ভাংচুর - লুটপাট

মোশারফ হোসেন ॥
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষ ও আগ্নেঅস্ত্রের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত ও ৩০ টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি গত সোমবার (১৬ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালুয়া গ্রামে ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
আহতরা হলেন - ওই এলাকার মৃত নুদি শেখের ছেলে দুলাল শেখ (৫০), মৃত রেদওয়ান শেখের ছেলে শফিকুল শেখ (৩৫), বাবলু শেখের ছেলে শিমুল হোসেন (১৮), মিন্টু শেখের ছেলে আমজাদ হোসেন (১০), ফেরদৌসের ছেলে রকি শেখ (১৭), মিরাজের ছেলে কবিলে শরীফ (৩৮), মিরাজ শেখ (৬৩), রহিমের ছেলে শাহাদত হোসেন (১৮), খালেক শেখের ছেলে রাসেল শেখ (২০), মজিদ শেখের ছেলে সাগর শেখ (১৭), মৃত বদর উদ্দিনের ছেলে শফিকুল (৪২)সহ অজ্ঞাত আরো ৪ জন।
জানা গেছে, আহতরা প্রথমে বিষয়টি লুকানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে সন্ধায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় আহতদের। তাদের মধ্যে শফিকুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার সকালে অপি ও দুলাল নামের আরো জনকে কুষ্টিয়া প্রেরণ করা হয়।
এঘটনায় মঙ্গলবার সকালে কুমারখালী থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৪। মামলার ৫ নং আসামী ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং সদস্য হাবিল কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক স্বপন সমর্থিত খালেক মেম্বর এবং চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আলী গ্রুপের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে এলাকায় যেকোন ঘটনায় দুটি গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার করে।
গেল ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালনকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুগ্রুপের চরম উত্তেজনা চলছিল। এরই মাঝে সোমবার (১৬ আগষ্ট) দুপুরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলী'র সমর্থকরা বেড় কালুয়া গ্রামের আশু শেখের মেয়ের বিয়ের আয়োজনে কাজ করছিল। এসময় খালেক মেম্বরের সমর্থকরা আগ্নে অস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া, ঢাল - সরকি, ইট - পাটকেল, লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা করেন।
এতে আলী গ্রুপের কমপক্ষ্যে ১৫ জন গুলিবৃদ্ধ হয়ে আহত হয়। এছাড়াও ৩০ টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রায় প্রায় ২৫ টি বাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
আরো জানা যায়, এঘটনায় আলী সমর্থিত আশরাফুল মঙ্গলবার সকালে থানায় মামলা করেন। মামলা নং ১৪। পুলিশ খালেক মেম্বর সমর্থিত হাবিল মেম্বরকে গ্রেফতার করেছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এবিষয়ে মামলা বাদী আশরাফুল বলেন, আমরা আশু শেখের মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠানে কাজ করছিলাম। এসময় প্রতিপক্ষের রিপন মন্ডল, আশরাফুল ব্যাপারীসহ ৩০ থেকে ৪০ জন হাবিল মেম্বরের নেতৃত্বে গুলি করতে করতে আমাদের উপর আক্রমণ চালায়। প্রতিপক্ষের হাতে আগ্নে অস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া, ঢাল, সরকি, লাঠিসোটা ছিল। এতে আমাদের গ্রুপের কমপক্ষে ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৩০ টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করে প্রতিপক্ষরা। তিনি আরো বলেন, এঘটনায় থানায় মামলা করেছি।
কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলী হোসেন বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন আগ্নে অস্ত্রসহ এলাকায় নিয়মিত মহড়া দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের পায়তারা করে। সোমবার দুপুরে অতর্কিত ভাবে তারা আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক স্বপন সমর্থিত খালেক মেম্বর বলেন, আলী গ্রুপের লোকজন প্রায় আমাদের উপর হামলা চালায়। সোমবার পুনরায় হামলার জন্য আমার বাড়ির কাছাকাছি চলে আসে। এসময় আমার লোকজন আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তবে কোন গুলাগুলি হয়নি। তিনি আরো বলেন, প্রতিপক্ষরা নিজেদের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে আমাদের দোষারোপ করছে।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক স্বপন বলেন, উভয় আমার লোক। তুচ্ছ ঘটনায় একটু উত্তেজনা হয়েছিল। তবে গোলাগুলি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আকুল উদ্দিন বলেন, আহত ১১ জন হাসপাতালে এসেছিলেন। তন্মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, রোগীর ভাষ্য মতে তারা আগ্নে অস্ত্রের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে আওয়ামীলীগের দুগ্রুপের বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে এক পক্ষ বিয়ে বাড়িতে অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ৬ থেকে ৭ জন আহত হয়েছেন। কিছু ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরো বলেন, থানায় মামলা হয়েছে। এলাকায় শান্তি রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments