Random Posts

পানি প্রবাহের পথ আটকে মাছ চাষ প্রভাবশালীদের

মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পানি প্রবাহের পথ আটকে একবিঘা জমিতে পুকুর খনন করে মাছচাষ করছে মোক্তার সর্দার নামের এক প্রভাবশালী। এতে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খরশেদপুর, কসবা, জোরারপুর, ছোট মাছগ্রাম, কল্যাণপুরসহ আশেপাশের কয়েকটা গ্রামের কয়েক শত শত বিঘা জমির বেগুন, পেঁপে, কলা, ধানসহ কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন প্রায় ৪ শতাধিক কৃষক। অপর দিকে এলাকার কে বি সি, মাস্টার্স ও কে এইচ বি নামের তিনটি ইটভাটা প্লাবিত হওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত মোক্তার সর্দার ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের মৃত উকিল সর্দারের ছেলে। তবে অভিযুক্ত মোক্তার সর্দার দাবি করেন, বিবিবি নামের একটি অবৈধ ইটভাটা পানি প্রবাহের পথে মাত্র দশ ইঞ্চির প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পদ্মা নদী পাড়ের শিলাইদহ ইউনিয়নের খরশেদপুর, কসবা, জোরারপুর, ছোট মাছগ্রাম, কল্যাণপুরসহ আশেপাশের কয়েকটা গ্রামের শত শত বিঘা জমির বেগুন, পেঁপে, কলা, ধানসহ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে সবজ্বি ক্ষেত নষ্ট করে ধানের চারা রোপন করেছে। ধানের চারাও রয়েছে পানির নিচে। এছাড়াও ইটভাটা গুলোতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
এলাকাবাসী জানায়, শিলাইদহ নৌকাঘাট থেকে সৃষ্ট কোল হয়ে খরশেদপুর, কসবা, ছোট মাছগ্রাম, কল্যাণপুর হয়ে প্রায় চার কিলোমিটার দুরে হাসিমপুর কোল দিয়ে এঅঞ্চলের পানি পদ্মা নদীতে প্রবাহিত হত। কিন্তু পানি প্রবাহের কোলের উপর ছোট ছোট পাইপ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে অপরিকল্পিত বেশকিছু ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে পানি প্রবাহে কিছুটা বাঁধাগ্রস্থ হয়।
কিন্তু এবছর কল্যাণপুর গ্রামের মোক্তার সর্দার কোলের পাশে একবিঘা জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করায় পানি প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে। এতে এবছর পেঁপে, কলা, বেগুন, ধানসহ কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসলসহ জমি প্লাবিত হয়েছে। ফলে প্রায় শতাধিক কৃষক লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে।
কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, পনেরো কাঠা জমিতে বেগুনের চাষ করেছিলাম। মাত্র গাছ গুলোতে বেগুন ধরা শুরু করেছিল। কিন্তু জমিতে পানি জমে গাছ গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। পরে বাধ্য হয়ে বেগুন গাছ তুলে ধানের চারা লাগিয়েছি। কিন্তু তাও পানিতে ডুবে গেছে। বেগুন ছাড়াও দেড় বিঘা জমির পেঁপে ও দুইবিঘা জমির কলা ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। সবমিলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক জসিম শেখ বলেন, পানি বের হবার রাস্তায় প্রভাবশালীরা মাছচাষ করছে। ফলে এবারই প্রথম শত শত বিঘা ফসলসহ জমি প্লাবিত হয়েছে। প্রায় চার শতাধিক কৃষক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।
কৃষক হাবিব কর্তৃপক্ষের কাছে পানি অপসারণের দাবি করে বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকেরা সাধারণত ফল ও সবজ্বির চাষাবাদ করে। পানির কারণে এবারই ধানের চাষ করছে কৃষকেরা। আমরা দ্রুত পানি প্রবাহের পথ সচল দেখতে চাই।
অভিযুক্ত মোক্তার সর্দার বলেন, এবছরই একবিঘা জমিতে পুকুর খনন করেছি। সেখানে মাছচাষ করছি। পাশের বিবিবি নামের একটি অবৈধ ইটভাটা পানি প্রবাহের পথে মাত্র দশ ইঞ্চির প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমি শুধু পাইপের মুখে নেট নিয়ে মাছ রক্ষা করছি।
তবে এবিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি বিবিবি ব্রিকসের মালিক মিরাজ মেম্বর।
কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। তবুও ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments