কুষ্টিয়ায় লকডাউনে নিম্নমধ্যবিত্তরা পিষ্ট

মোশারফ হোসেন ॥ মধ্যবিত্ত বলতে আমরা কি বুঝি? ছোট করে বলতে গেলে মধ্যবিত্ত বলতে এমন একটা জীবনকে বোঝায় যেখানে স্বাদ আছে কিন্তু সাধ্য থাকে না।
কুমারখালীসহ দেশব্যাপী করোনা সংক্রমন নিয়ন্ত্রণে চলছে কঠোর লকডাউন। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুম। এই বর্ষা আর লকডাউনের কারণে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্নমধ্যবৃত্তরা । ঈদ কে সামনে রেখে দূরচিন্তায় পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ গুলোর। তারা এখন নিজ পরিবারের জন্য কিভাবে খাবার যোগার করবেন বা সংসার চালাবেন এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন।
সব চাইতে বেশী বিপদে আছে মধ্যবৃত্তরা। তারা না পারে চেয়ে খেতে না পারে, যে কোন  কাজ করতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে চাকরি করতাম। করোনার পর থেকেই স্কুল বন্ধ। এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে কি,জে’ বিপদে আছি।
না পারছি বলতে না পারি সইতে। সামনে ঈদ, মাঝে মধ্যে মনে হয় যে কাজ পাব সেই কাজ করবো। কিন্তু চক্ষু লজ্জার কিছুই করতে পারছিনা।
এক সময়ের সফল ব্যবসায়ী কুমারখালী পৌর এলাকার লিটন হোসেন, ব্যবসায় লুকশানে এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তিনি বললেন ভাই আমার করুন অবস্থা কারো কাছে কিছু চাইলে কেও বিশ্বাস করতে চাইনা আমার অভাব আছে। সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয় ভালো প্যান্ট, ভালো শার্ট পড়তে হয় । না পারি ভ্যান চলাতে না পারি বড় ব্যাবসা করতে। জীবনের কঠিন সময় পার করছি দেখার কেউ নেই।
বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, রাস্তার মোড়ে কিংবা বাজারের পাশে ছোট দোকান গুলো বন্ধ। সামনে ঈদ কে সামনে রেখে দূরচিন্তায় শেষ নেই নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তাদের।
ফল ব্যাবসায়ী হারুন তিনি বললেন, একদিকে লকডাউনের কারণে সাধারণ মানুষের আনাগোনা নেই। আর মানুষ যদি না থাকে তাহলে আমাদের কি হবে, কিভাবে চলবে সংসার এমনটাই বললেন তারা।
এলঙ্গী পাড়ার সোহেল লুঙ্গি ব্যাবসায়ী বলেন, বাজারের পাশে বসেন লুঙ্গি বিক্রি করতাম কিন্তু মানুষজন না থাকায় খুব কষ্টে আছি। লকডাউন চলার কারণে কোনও কাজ নেই। আমার পরিবারে চারজন সদস্য। সবাই আমার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই বসে আছি যদি কিছু আয় হয় সে আশায়।
মধ্যবিত্ত পরিবার !এরা না গরীবনা ধনী ।এই শ্রেণীর লোকেরা পৃথিবীতে আসে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার জন্য !!মধ্যবিত্ত পরিবারে মানুষ স্বপ্ন দেখে না বা স্বপ্ন দেখতে ভয় পায় !কারন স্বপ্ন ভাঙ্গার কষ্ট খুবই মারাত্মক ।

Post a Comment

0 Comments