ঠিকাদারের উদাসীনতা সাধারণ মানুষের ভুগান্তি

মোশারফ হোসেন ॥ ঠিকাদারদের গাফিলতিতে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ।কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মনোহরপুর কুষ্টিয়া জেলাধীন লাহিনি বটতলা আর এইচডি সড়ক কাঁচেরকোল জি,সি  বাঁশগ্রাম সি,সি এবং  কুমারখালী অংশ সড়কের দুই হাজার মিটার চেন  ৩.০০/৩.০০ মি আর সি,সি বক্স কালভার্ট পুনঃ মিরামত।
অর্থ বছর ২০২০- ২০২১ ইং প্রাক্কলিত মূল্য ১৯ লক্ষ ৭ হাজার, পাঁচশত ৭৪ টাকা। কাজ শুরু হয় ২৭/১০/২০২০ ইং কাজ শেষ হাওয়ায় সময় কাল ছিল ৩১ /১২/২০২০ ইং। এবং কুষ্টিয়া লাহিনী বটতলা ভায়া কাচেরখোল বাঁশ গ্রাম জিসি এবং পান্টি কুমারখালী অংশে সড়কে  ২০০০ মিঃ চেইনেজ একটি ৩.০০ মিঃ/৩.০০ মিঃ আর সিসি বক্স কালভার্ট পুনঃ বাসন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আসিফ এন্টারপ্রাইজ আড়ুয়া পাড়া কুষ্টিয়া। ব্রীজের কাজের সময় কাল পার হলেও এখনো সড়কে অবস্থিত ব্রিজটি ঠিকাদারের গাফিলতিতে নির্মাণ কাজ শেষ হাওয়া নিয়ে শঙ্কা স্থানীয়দের। কাঙ্ক্ষিত ব্রীজ নির্মাণ কাজ শেষ কবে হবে'  তা নিয়ে সন্দিহান সাধারণ মানুষ। ব্রীজ নির্মাণের কাজ থেমে থাকায় । শুকনো মৌসুমে ধুলা, বর্ষা মৌসুমে কাদার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সেতুটি নির্মাণের জন্য ভাঙ্গা হলেও   বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হলেও' এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত শুক্রবার ওই রাস্তা দিয়ে ভ্যান উল্টে ৪ জন আহত হয়, । গত দুই মাসে অনেক ভ্যান, মটরবাইক্, ট্রাক, অটোরিকশা  বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। হেঁটে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাটি।
 ব্রীজের নির্মাণকাজ ৩০ ভাগ শেষ হয়নি ১ বছরেও। কিন্তু এর  পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে এতে ভুগান্তি সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের।  এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিন শেখ জানান, নির্মাণাধীন ব্রীজের পাশে বিকল্প পথ তৈরি  করায় প্রথম থেকেই পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে  কুষ্টিয়া, বাঁশগ্রাম, পান্টি, যোগাযোগের একটি মাত্র মাধ্যম কিন্তু ব্রীজটির কারণে চলাচল অসম্ভব।  কলেজ শিক্ষার্থী সাইদুর বলেন, সাইকেল নিয়ে শুকনোর সময় ধুলা, বৃষ্টির সময় কাঁদার কারণে যেতে পারিনা ব্রীজ টি কাজ হচ্ছে না । মদি ব্যাবসায়ী শাজাহান বলেন, কুষ্টিয়া থেকে দোকানের মালামাল আনতে পারিনা এই ব্রীজের কারণে, এখন যে অবস্থা পায়ে হেঁটে চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে, আর কতদিন এ ভাবে চলবে জানিনা । ভ্যান চালক ওয়াসিম জানান, খালি ভ্যান নিয়ে গেলেও উল্টে যায় ভ্যান। ব্রীজের পাশে যে রাস্তাটি আছে এখন মরণ ফাঁদ।
 বর্ধিত সময়ের মধ্যেও অপেশাদার ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে  শেষ হচ্ছে না ব্রীজের কাজ । ফলে এ সেতু দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষের প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাজাও মানুষের চাওয়া অতি দ্রুত ব্রীজটি কাজ সম্পন্ন হোক।
এবিষয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের অটোচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার রাস্তা ( সান্দিয়ারা - লাহিনী সড়ক) দীর্ঘদিন খারাপ থাকায় অসুস্থ রোগীর ভাড়া পেলে এই রাস্তা দিয়ে নিরাপদে চলাচল করি। আজও একটা সিজারের রোগী কুষ্টিয়া থেকে নিয়ে আসলাম। কিন্তু ৬ মাসের বেশি রাস্তায় পুকুর কাটে থৈইছে (রেখেছে)। সারার (মেরামত) নাম নেই। এমন কাম (কাজ) মানসে (মানুষ) করে নাহি।
তিনি আরো বলেন, যদুউ (যদিও) একটার কাম শেষ হয়ছে। তাও ব্রিজের কোলে মাটি না থাকায় চলা যাচ্ছেনা। ব্রিজের কাছে রোগী নামিয়ে হেটে পার করা লাগতেছে।
এক অটোগাড়ির যাত্রী লুবনা খাতুন। সে কলেজ ছাত্রী ও হার্টের রোগী। সে নিয়মিত এই সড়ক দিয়ে শৈলকূপা শহর থেকে কুষ্টিয়া শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়া আসা করে। সে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলে। আমি হার্টের রোগী। ভাঙা রাস্তায় (ড্রাইভেশন রাস্তা) নামলে বুক ধরফর করে। মনে হয় এই বুঝি মরে গেলাম।
চাদপুর ইউনিয়নের মহননগর এলাকার বসির উদ্দিন (৬৫)। সাইকেল চালিয়ে চলাচল করেন তিনি। তিনি বলেন, এক বছর হয়ে গেল, তবুও ব্রিজের কাজ শেষ হয়নি। জনগণের চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সামনে ঈদ আসছে। বেশি লোক চলাচল করবে। দ্রুত কাজ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে।
এবিষয়ে কাজ শেষ করা ব্রীজের ঠিকাদার জাহাঙ্গীর বলেন, আমার টার  কাজ শেষে হয়েছে। কাজ শেষ হবার ২৮ দিনের মধ্যে ভারি যানবহন চলাচল করলে সেতু নষ্ট হয়ে যায়। তাই সংযোগ সড়ক মেরামত করা হয়নি।
মেসার্স আসিফ এন্টার প্রাইজের পরিচালক মুস্তাক বলেন, এটি ব্রিজ পুনঃ নির্মাণের কাজ। চলমানটা ভেঙে নতুনটা করতে হয়। বাজেটে ভাঙার ব্যয় নাই। তাই একটু ভেঙে রেখে দিয়েছি। তবে ড্রাইভেশন রাস্তা করা হয়েছে।
মুঠোফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি কাঁচিকাটা কালভার্ট নির্মাণের ঠিকাদার নজরুল ইসলামের।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, নানা জটিলতায় কাজ শেষনি। ঠিকাদারদের চাপ দেওয়া হচ্ছে কাজের জন্য।

Post a Comment

0 Comments