হাসপাতাল থেকে পালিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণীর মৃত্যু

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক গৃহবধূর ট্রেনে কাটা পড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার কুমারখালী থানার পেছনের ফটকসংলগ্ন রেললাইনের ওপর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। পরে পোড়াদহ রেলওয়ে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত গৃহবধূর নাম খাদিজা খাতুন ওরফে অন্তরা (২২)। তিনি কুমারখালী পৌরসভার বাটিকামারা এলাকার জনি শেখের স্ত্রী। তাঁদের পরিবারের এক সন্তান আছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, খাদিজা মানসিক রোগে ভুগছিলেন। বাড়িতে থেকে পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতাল থেকে কৌশলে বের হন তিনি। এরপর সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার হয়।
নিহত তরুণীর স্বামী জনি শেখ বলেন, তাঁর স্ত্রী মানসিক রোগী ছিলেন। মাঝেমধ্যেই আত্মহত্যার চেষ্টা করতেন। গত ২৯ জুন দুপুরে হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পরে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তাঁরা। সেই থেকে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতেও হাসপাতালে স্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তিনি। ভোরে হাসপাতাল থেকে তিনি কিছু সময়ের জন্য বাড়ি যান। পরে মোবাইলে শুনতে পান স্ত্রী মারা গেছেন।
কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকুল উদ্দিন বলেন, খাদিজা গত ২৯ জুন দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এরপর আজ ভোর পাঁচটায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
খাদিজার বাবা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বাড়িতে থেকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে তাঁর মেয়ের চিকিৎসা চলছিল। মেয়ের পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছিল। কেন আত্মহত্যা করল সেটা বুঝতে পারছি না।’
পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজুর রহমান বলেন, সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে হাসপাতাল ও থানার পেছনের গেটসংলগ্ন রেললাইনের ওপর গলা কাটা অবস্থায় স্থানীয় লোবজন এক তরুণীকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। কুমারখালী থানার পুলিশ পরে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। কুমারখালী রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম থেকে ৩০০ মিটার পশ্চিমে মালবাহী ট্রেনে গলা কেটে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। সুরতহাল শেষে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments