তিন খুন: কী ঘটেছিল সেই ৫ মিনিটে

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥  কুষ্টিয়ার কাস্টমস মোড়ে রোববার প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তিনজনকে। অভিযোগ, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী, তার আগের ঘরের সন্তান ও স্ত্রীর ‘প্রেমিক’কে হত্যা করেন পুলিশের এএসআই সৌমেন রায়।
নিহতরা হলেন সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার, আসমার আগের ঘরের সন্তান রবিন ও স্থানীয় বিকাশকর্মী শাকিল।
পুরো ঘটনাটি মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ঘটে বলে জানিয়েছেন ওই স্থানের দোকানদার মাসুদ সরদার।
তিনি জানান, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কাস্টমস মোড় থেকে নেমে আসা ম আ রহিম সড়কের প্রথম বাড়ি নাজ ম্যানশন। এর বিপরীত দিকে প্রথম দোকানটি তার।
মাসুদ বলেন, ‘বেলা সোয়া ১১টার দিকে হবে, আমি তখন দোকানে কলা সাজাচ্ছিলাম। দেখলাম রাস্তার ওপারে দুজন পুরুষ, একজন মহিলা ও এক শিশু দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। তারা সামনের খাবারের দোকানে বসতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দোকানি তাদের না করে দেন।
‘এরপর তারা কথা বলতে বলতে ওই বিল্ডিংয়ের (নাজ ম্যানশন) নিচতলার কলাপসিবল গেটের ভেতরে চলে যান। সেখানেও দুই সারিতে দোকান রয়েছে। হঠাৎ তিনটি গুলির শব্দ শুনি। শুনি চিৎকার-চেঁচামেচি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে দেখি ওই শিশুটি দৌড়ে বের হয়ে আসল। সে ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। এর সঙ্গে সঙ্গে পেছনে পিস্তল হাতে ছুটে আসেন একজন।
‘তিনি শিশুটির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর তিনটি গুলি করেন। এরপর আবার দ্রুত কলাপসিবল গেটের মধ্যে চলে যান।’
তিন খুন: কী ঘটেছিল সেই ৫ মিনিটে
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রাসেল বলেন, ‘আমি বসেছিলাম ঘটনাস্থলের খুব কাছে রাস্তার ওপারে একটি দোকানে। গুলির শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে সামনে আসলাম। দেখি একটা বাচ্চা দৌড় মারছে। একজন এসে বাচ্চাকে তিনটা গুলি করল।
‘আমরা বাচ্চাটাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করছিলাম। ওই সময় লোকটি আমাদের দিকেও একটি গুলি করল। গুলিটি আমাদের কারও গায়ে লাগেনি। পরে আমরা বাচ্চাটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে লোকটি কলাপসিবলের ভেতরে গিয়ে আরও ৩-৪টি গুলি করল। আমরা দূর থেকে দেখলাম ভেতরে একজন মহিলা এবং একজন পুরুষ নিচে পড়ে আছে।’
দোকানি মাসুদ সরদার জানান, ‘এ ঘটনা ৫ মিনিটের মধ্যেই ঘটে। পরে জড়ো হওয়া লোকজন ওই লোক এবং বাসাটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় একটি কাচের বোতল তার মাথায় লাগলে বলেন, আমি নিজেই পুলিশ ডেকে ধরা দেব। আপনারা ইট মারবেন না। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ আসলে তিনি পিস্তল নিচে ফেলে আত্মসমর্পণ করেন।’
পুলিশ ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গুলিবিদ্ধ নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয় জানিয়ে মাসুদ বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছিল একজন অন্য পুরুষকে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি না মানায় গুলি করে দেন। পরে জানতে পারলাম পরকীয়া কেস।’

Post a Comment

0 Comments