ভয়ে পালাতে থাকা শিশুর মাথায় গুলি করে হত্যা ॥ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করলেন এএসআই সৌমেন

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া শহরে প্রকাশ্যে সড়কের পাশে স্ত্রী-সন্তাসসহ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করলেন এএসআই সৌমেন। কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলি চালানো সৌমেনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত এএসআই সৌমেন খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত রয়েছেন। সৎ বাবাকে প্রথমে মা ও পরে মায়ের বন্ধুর মাথায় গুলি করতে দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল ৫ বছরের ছোট্ট রবিন। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হলো, ছোঁ মেরে তাকেও ধরে ফেলেন সৎ বাবা, শিশুটির ভয়ার্ত চিৎকার উপেক্ষা করে সোজা মাথায় গুলি করেন তিনি। কয়েক মিনিটের মধ্যে এভাবেই ঝরে গেল তরতাজা তিনটি প্রাণ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসমা তার শিশুসন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কাস্টম মোড়ে তিনতলা একটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিকাশকর্মী শাকিলও। হঠাৎ সেখানে পৌঁছে সৌমেন পিস্তল বের করে আসমার মাথায় গুলি করেন। পাশে থাকা শাকিলের মাথায়ও গুলি করেন তিনি। আসমার ছেলে রবিন পালাতে গেলে তাকে ধরে মাথায় গুলি করা হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন সৌমেনকে ধরতে গেলে তিনি দৌড়ে তিনতলা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে লোকজন ভবনটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সৌমেনকে গ্রেপ্তার করে। গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেন সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার (২৮), আসমার আগের ঘরের সন্তান রবিন (৫) ও স্থানীয় বিকাশকর্মী শাকিল (২৮)।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) খায়রুল আলম জানান, শাকিলের সঙ্গে আসমার বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এএসআই সৌমেন গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এর কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য এখনও দেননি।
কুষ্টিয়াতে হালসা ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকার সময়ে সৌমেনের সঙ্গে বিকাশকর্মী শাকিলের পরিচয় হয়। তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। শাকিলের বাড়ি কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের সাওতাকারিগর পাড়ায়। তারই প্রতিবেশী আসমা আক্তার। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পর আসমা তার ছেলে রবিনকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকছিলেন।
পুলিশ জানায়, এএসআই সৌমেনের সঙ্গে দেড় বছর আগে আসমার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর তারা বিয়ে করেন। তবে ধর্মীয় কারণে এই সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। সম্প্রতি সৌমেন পরিবারের ইচ্ছায় আরেকটি বিয়ে করেন। এর আগে কুষ্টিয়া থেকে বদলি হয়ে তিনি খুলনার ফুলবাড়িয়ায় চলে যান।

Post a Comment

0 Comments