গরিবের জন্য ঈদ পোশাক ফ্রি করে দিলেন দোকানি

মোশারফ হোসেন ॥ গরিব-দুঃখী মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অন্যরকম দোকান খুলেছেন তিয়াস। নতুন পোশাক ছাড়া উৎসব জমে না। আর ঈদ সে তো নতুন পোশাক ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। তবে অনেকের নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য থাকে না। এবার সামর্থ্য না থাকার সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনা মহামারি। কর্ম হারিয়ে বিপাকে পড়েছে অনেক মানুষ। অনেকের ঈদের পোশাক কেনা হবে না। তাদের কথা চিন্তা করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুষ্টিয়ার এক তরুণ ব্যবসায়ী।
গরিব-দুঃখী মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অন্যরকম দোকান খুলেছেন তিনি। তার দোকানে অসহায় মানুষ আসছেন, দেখে ঈদের পোশাক পছন্দ হলে ফ্রিতে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।
অসহায় মানুষের জন্য ভিন্ন রকম দোকান খুলেছেন তরুণ ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী শাকিল আহমেদ তিয়াস। তিনি কুমারখালী ইয়াং কালেকশন, আর এন ফার্নিচার ও রাফা পাঞ্জাবি গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী। তার দোকানটি কুমারখালী গণমোড় সংলগ্ন কৃষি ব্যাংকের নিচে মোবারক মার্কেটে।
দোকানের নাম দিয়েছেন ঈদ আনন্দ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা। দোকানে শিশু থেকে সব বয়সী মানুষের জন্য নতুন জামা, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি শার্টসহ নানা পোশাক রেখেছেন। এখান থেকে পছন্দমতো একটি পোশাক ফ্রি নিতে পারছেন অসহায়রা। দোকানটির উদ্বোধন করেন শাকিল আহমেদ তিয়াসের মা সুরাইয়া পারভীন।
জানা যায়, করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে ঈদ উপহার দিতে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন শাকিল আহমেদ তিয়াস।  
সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানে আগতদের স্বাগতম জানান কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। তারা শিক্ষার্থী। এরপর আগতরা দোকানের নতুন পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, শার্ট ও গেঞ্জি দেখে পছন্দ হলে প্যাকেট করে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বাসায় তেমন কাজ নেই। তাই ভালো কাজে এগিয়ে এসেছি। স্বেচ্ছাশ্রমে দোকানে কাজ করছি।
শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, নতুন পোশাক ছাড়াতো ঈদের আনন্দ হয় না। করোনায় কর্মহীন অনেক মানুষের জন্য পোশাক কেনা সম্ভব হবে না। মূলত সেজন্যই ভিন্ন রকম আয়োজন করেছি। মানুষ দোকানে আসবে, টাকা ছাড়াই পছন্দের পোশাক কিনে বাড়ি ফিরবে। নিজের কাছেই ভালো লাগছে। বিত্তবানদের উচিত, ছিন্নমূল মানুষের জন্য কিছু করা। এতে মনে প্রশান্তি আসবে।
তিয়াসের মা সুরাইয়া পারভীন বলেন, আমার ছেলে সবসময় মানুষের কথা ভাবে। মানুষের জন্য চিন্তা করে। ছেলের এই উদ্যোগ আমার খুব ভালো লেগেছে।
নতুন পোশাক নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন জানান, করোনায় কাজ নেই। নতুন পোশাক কেনার টাকা নেই। এখান থেকে পছন্দ করে পোশাক নিয়েছি। অনেক ভালো লাগছে।

Post a Comment

0 Comments