Header Ads

দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে যাতায়াত ॥ করোনা সংক্রমনের আশঙ্কা

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে গোপনে চোরাপথে বাংলাদেশীদের যাতায়াতের ফলে সীমান্ত এলাকায় করোনা রোগি সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা বেড়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় সীমান্তরক্ষী বিজিবি’র টহল জোরদার করা হলেও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাড়তি কোন নজরদারি লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। ঈদের এক সপ্তাহ আগ থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত চোরাকারবারী ও ভারতের কেরালায় যাতায়াতকারী বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরা সকলেই দৌলতপুর সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা। এদেরমধ্যে কেরালা ফেরত একজন চোরাপথে বাংলাদেশে প্রবেশকালে বিজিবি তাকে আটক করে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করেছে। কুষ্টিয়া জেলায় চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৩ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত।
সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানাগেছে, গত ২০ দিনে দৌলতপুর উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন পাকুড়িয়া ভাঙাপাড়ার ইছাহক আলীর ছেলে রিয়াজুল ইসলাম (৩০), মুন্সিগঞ্জের শুকুর আলীর ছেলে মতিউর রহমান মতি (২৭), মহিষকুন্ডি মাঠপাড়ার আসাদের ছেলে কালু (২৬) ও শাজাহানের ছেলে লিটন (২৫) সহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী গোপানে ভারত থেকে অবৈধভাবে চোরাপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। এদেরমধ্যে ভারতের কেরালা থেকে চোরাপথে বাংলাদেশে প্রবেশকালে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর সীমান্ত থেকে গত ২১মে বিদুছ মন্ডল (৪০) নামে এক বাংলাদেশীকে আটক করে তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দিয়ে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করেছে রামকৃষ্ণপুর বিওপি’র বিজিবি। সে ভাগজোত এলাকার কাওছার মন্ডলের ছেলে। এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, বিদুছ মন্ডলের বিরুদ্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
গোপনে চোরাপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের বিষয়ে সীমান্ত সংলগ্ন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, চোরাপথে অবাঁধে বাংলাদেশীদের যাতায়াতের সুযোগ নেই। তবে মাদক চোরাকারবারীদের অবাঁধ যাতায়াত ও মাদক পাচার কারবার আগের মতই চলমান আছে। কেরালা থেকে মোহাম্মদপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকালে ভাগজোত এলাকার বিদুছ মন্ডল নামে একজনকে বিজিবি আটক করে থানায় দিয়েছে বলে তিনি জানান।
অপরদিকে ভারত সীমান্ত লাগোয়া দৌলতপুর উপজেলা হওয়ার কারনে কুষ্টিয়া জেলায় ঈদের পর থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জেলায় নমুনা পরীক্ষায় সনাক্তের হারও বেড়েছে। ভারত থেকে বৈধ পথে দেশে ফেরার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে অবৈধভাবে দেশে ঢুকার খবর রয়েছে। তবে করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বাড়লেও এখানকার মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকেই। আবার এ ব্যাপারে প্রশাসনের বাড়তি কোন পদক্ষেপ বা নজরদারিও চোখে পড়ছে না। গত ২২ মে থেকে ভারত থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কুষ্টিয়ায় ফিরেছেন ১৪৭ জন মানুষ।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভারত ফেরতদের মধ্যে ৩ জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা খারাপ, তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কারো শরীরে করোনার ভারতীয় ধরণ শনাক্ত হয়নি। এছাড়া এসব নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স পরীক্ষা এখনো হয়নি। এই পরীক্ষা কেবল ঢাকাতেই সম্ভব। কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঢাকা থেকে লোক এসে নমুন নিয়ে যাবে। তারপর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঈদের সময় মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মেলামেশা করায় সম্প্রতি আক্রান্তের হার বেড়েছে। সিভিল সার্জন বলেন, ১০ দিন আগে নমুনায় পরীক্ষায় আক্রান্তের হার ছিল ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে। সেটি এখন ১৬ থেকে ২০ শতাংশে ঠেকেছে।
রোববার রাতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন সুত্রে জানা গেছে, এবছর কুষ্টিয়া জেলায় চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৩ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত।
এদিকে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা জেলা হিসেবে কুষ্টিয়ায় করোনা প্রতিরোধে বাড়তি কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম বলেন, সরকারের সকল নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি কার্যকরে স্থানীয় প্রশাসন মাঠে রয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.