ভেড়ামারায় আঁখি হত্যার রহস্য উদঘাটন

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানার মামলা নং- ২১, তারিখ- ১৭/০২/২০২১ ইং, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড, জি.আর-৩৮/২০২১।
গত ১৭/০২/২০২১ খ্রিঃ সকাল ০৮.০০ ঘটিকায় কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানাধীন চণ্ডিপুর গ্রামস্থ ক্যানাল ঘাটের পানিতে একজন অজ্ঞাতনামা মহিলা(২২)’র লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে সংবাদ দেয়। ভেড়ামারা থানার সাধারণ ডায়রী নং-৭৩৫,মোতাবেক ভেড়ামারা থানা পুলিশ ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে প্রেরণ করেন। উক্ত ঘটনা সংক্রান্তে ভেড়ামারা থানার এস.আই(নিঃ) এস,এম মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সূত্রে বর্ণিত হত্যা মামলা দায়ের করেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) কুষ্টিয়া জেলা ভেড়ামারা থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে।  উন্নত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুষ্টিয়া জেলা অজ্ঞাতনামা ভিকটিমের নাম ঠিকানা উদ্ধার করে। তার নাম মোছাঃ আঁখি আক্তার (২১), পিতা-আলম, সাং- নন্দলালপুর, থানা- নারায়নগঞ্জ, জেলা- নারায়নগঞ্জ মর্মে পরিচয় নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে পিবিআই কুষ্টিয়া জেলাকে মামলার তদন্তভার দেয়া হয়। হেডকোয়ার্টাসের নির্দেশে এসআই আশরাফুল আলমকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। উক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রকাশ্য ও গোপন অনুসন্ধানকালে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, ভিকটিম আঁখি আক্তার এর সাথে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী রাজ্জাকের পূর্ব পরিচয় ছিল। সেই পরিচয় সুবাদে আসামী রাজ্জাকের সাথে ভিকটিম আঁখি আক্তারের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। একটা পর্যায়ে আসামী রাজ্জাক জানতে পারে ভিকটিম দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত। তারপরও আসামী রাজ্জাক উক্ত ভিকটিমের সাথে তার সম্পর্ক বজায় রাখে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে উক্ত তদন্তে প্রাপ্ত আসামী রাজ্জাককে বিশেষ কৌশলী অভিযানের মাধ্যমে ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন প্রত্যন্ত অঞ্চল দ্বিমুখা এলাকা থেকে গত ১০/০৫/২০২১ খ্রিঃ তারিখ ভোর রাত্র ০৩.২৫ ঘটিকায় আটক করা হয়। আসামী রাজ্জাককে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে তার এলাকার অপরাপর আসামীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিকটিমের সাথে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকায় দেহ ব্যবসার কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তিমতো আসামী রাজ্জাক ভিকটিম আঁখিকে নিয়ে গত ১৬/০২/২০২১ খ্রিঃ তারিখ সকালে ঢাকা থেকে রওনা করে বিকাল অনুমান ১৬.০০ ঘটিকায় কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেটে আসে। তারপর পথচলতি অটোযোগে তারা মিরপুর যায়। ইতিমধ্যে তারা অপরাপর আসামীদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে ঘটনাস্থলে আসতে বলে। আসামী রাজ্জাক এবং ভিকটিম আঁখি ঘটনাস্থলে পৌঁছিলে ভিকটিম আঁখির সাথে আসামীদের চুক্তি অনুযায়ী টাকার বিষয় নিয়ে বিরোধ হয়। মেয়েটি যখন উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকে তখন আসামীরা ভিকটিম আঁখিকে মারধর করে বলে, ‘এত জোরে কথা বুলছিস কেন? শোর শুনে লোকজন চলে আসবি।’ মারধরের ফলে সাথে সাথেই ভিকটিম আঁখি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং জ্ঞান হারায়।  এক পর্যায়ে ভিকটিম আঁখির দেহ নিথর হয়ে পড়ে। আসামী রাজ্জাক সে সময় ভিকটিমের হাতের আঙ্গুল কামড়িয়ে জীবিত আছে কিনা সেটি পরীক্ষা করে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তারা ধারণা করে যে, ‘ভিকটিম মারা গেছে।’ তারপর তারা ভিকটিমের হাত পা বেঁধে ক্যানেলের পানিতে ফেলে দেয়। আসামী রাজ্জাকের দেয়া তথ্য মতে অন্যান্য আসামীদের মধ্যে মোঃ লোকমান হোসেন @লুকু(৪২) পিং মৃত রতন মোল্লা সং চন্ডীপুর ০৪ নং ওয়ার্ড থানা ভেড়ামারা জেলা কুষ্টিয়াকে নাটোর জেলার লালপুর থানাধীন বিলমারিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী রাজ্জাক ও লুকুকে অদ্য বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে আসামী রাজ্জাক কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। বিজ্ঞ আদালত আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Post a Comment

0 Comments