মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন কী মমতা?

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে জয় পেতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। প্রাথমিক ফলাফলে সেই আভাসই মিলেছে। জয় নিশ্চিত হলে বাংলায় হেট্রিক সরকার গড়বে তৃণমূল।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ২০৮ আসনে এগিয়ে আছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর ৮২ আসনে এগিয়ে আছে বিজেপি। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে দুটি করে আসনে এগিয়ে আছে জোট ও অন্যনারা।
তবে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ‘খেলা’ এখনই শেষ হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে নন্দীগ্রাম নিয়ে। সেখানে মমতা জিতেছেন নাকি শুভেন্দু তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিলো।
শুরুতে এই আসনে তৃণমূল নেত্রী ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের খবর আসে। পরে জানা যায়, মমতা নয়, জিতেছেন বিজেপির নেতা ও এক সময়ের মমতার সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী।
এর আগে এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকাসহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নন্দীগ্রামে মমতার জয়ের কথা জানিয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, এর আগে ১৭ রাউন্ড ভোটগণনার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে জয়ী হয়েছেন বলে খবর আসছিল। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতে মমতার জয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বলা হয়, সার্ভারে সমস্যার জেরে সঠিক ভাবে কিছু জানা যাচ্ছে না। তার পরেই ১৬২২ ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের খবর আসে।
এর আগে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছিল, ১২০২ ভোটে নন্দীগ্রামে জয়ী হয়েছেন মমতা। সার্ভারের ত্রুটির জেরে দুপুরে এমনিতেই চল্লিশ মিনিট ভোট গণনা বন্ধ ছিল সেখানে। তার পর মমতার জয়ের খবর সামনে আসার পরও কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন। তার পরেই জানা যায়, শুভেন্দু জয়ী হয়েছেন। তবে কমিশনের তরফে এখনো পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
তবে নিজে হারলেও দলের জয়ের জন্য বাংলার মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মমতা। তিনি বলেছেন, বাংলার জয়ের জন্য সকলকে অভিনন্দন। বাংলার জয়, মানুষের জয়। বাংলা আজ ভারতকে বাঁচিয়েছে।’
নন্দীগ্রামের মানুষ যা করেছেন, ভালো করেছেন বলে অভিযোগও করেন মমতা। একই সঙ্গে ফলাফল নিয়ে এই বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন মমতা। তার অভিযোগ, আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে, রায় ঘোষণার পর কারচুপি হয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূল দ্রুতগতিতে আগাতে থাকলেও সামনে এসেছে একটি প্রশ্ন। নন্দীগ্রামে হেরে গেছেন মমতা, তাহলে তিনি কি এখন মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন?
ভারতের সংবিধানের আর্টিকেল ১৬৩ ও ১৬৪ অনুযায়ী, কাউকে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হতে চাইলে বিধানসভার সদস্য হতে হবে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, রাজ্যের বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ আইন প্রণেতারাই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করবেন। আরো বলা হয়েছে, টানা ছয় মাস মন্ত্রী কিংবা মুখ্যমন্ত্রী থাকতে গেলে তাকে রাজ্যের কোনও একটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। অন্যথায় ১৮০ দিন পর তার পদ বাতিল হয়ে যাবে।
সংবিধানের এসব ধারা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা ধরে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন অন্য কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। এজন্য তিনি সময় পাবেন ৬ মাস।
এখন দলের কোনো এক সদস্যকে পদত্যাগ করে তার আসনটি শূন্য করতে হবে। আর সেখান থেকেই নির্বাচন করে রাজ্যের ২৯৪ আসনের বিধানসভার আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হতে হবে। 

Post a Comment

0 Comments