মায়ের হাতে ভাত খেতে খেতে নিখোঁজ ॥ ৩দিন পর উদ্ধার লাশ

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আরাফাত নামে দেড় বছরের এক শিশু নিখোঁজের দুই দিন পর প্রতিবেশীর রান্নাঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। লাশটি বস্তাবন্দী অবস্থায় ওই রান্নাঘরের কোনায় পড়ে ছিল। আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দাড়েপাড়া গ্রামের ছপের আলীর রান্নাঘর থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আরাফাত ওই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। এর আগে গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় ছপের আলীর স্ত্রী কোহিনুর খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকাল নয়টার দিকে আরাফাত মায়ের সঙ্গে খেলার ছলে ভাত খাচ্ছিল। মায়ের হাত থেকে খাবার মুখে দিয়ে দৌড়ে বাড়ির বাইরে খোলা জায়গায় খেলছিল। এভাবে কয়েকবার ফিরে এসে ভাত মুখে নেওয়ার একপর্যায়ে আধঘণ্টা হয়ে যায়, কিন্তু খাবার নিতে আসে না আরাফাত। ছেলে ফিরে আসছে না কেন দেখতে গিয়ে তার মা বাড়ির বাইরে গিয়ে ছেলেকে আর খুঁজে পাননি। সন্ধ্যা পর্যন্ত না পেয়ে শিশুটির বাবা শরিফুল ইসলাম দৌলতপুর থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় প্রতিবেশী ছপের আলীর স্ত্রী কোহিনুর খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ
রোববার পুলিশ সারা দিন ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে শিশুটির কোনো সন্ধান পায়নি। সোমবার শরিফুলের বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে ছপের আলীর রান্নাঘরের ভেতর থেকে স্থানীয়রা দুর্গন্ধ পান। পরে রান্নাঘরের ভেতরে এক কোনায় বস্তাবন্দী কিছু দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দৌলতপুর থানা-পুলিশ গিয়ে বস্তাবন্দী আরাফাতের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বলেন, জিডির পর থেকে আরাফাতকে খুঁজতে পুলিশ ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে। যেখানে লাশ পাওয়া গেছে, ওই বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও হত্যার পর লাশ রান্নাঘরে এনে রাখা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত করা হচ্ছে। ছপের আলীর স্ত্রী কোহিনুর খাতুনকে আটক করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments