বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতার হুমকিতে ভেড়ামারা পৌরসভা : ড্রেন সংস্কার ও পরিস্কারে অগ্রিম প্রস্তুতি চলছে

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ সামনে বর্ষা মওসুম শুরু হচ্ছে। শহরে গতবারের ন্যায় এবারও জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে পারে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল ও অনেক পুরাতন। ২০থেকে ২৫ বছর আগের ড্রেন দিয়ে চলছে শহরে পানি নিষ্কাশন। তার পরও দীর্ঘদিন ড্রেনের তলানিতে  ময়লা মাটি পরিস্কার না করায় ড্রেন ভরাট হওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশন ঠিক ভাবে হয় না।
সেই জন্য  নবনির্বাচিত মেয়র পুর্ব প্রস্তুতি নিয়ে কিছু পরিকল্পনা দায়িত্বভারের পরপরই  গ্রহণ করেছে। সেই মোতাবেক ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে নির্মাণ, সংস্কার ও পরিস্কার অভিযান চলমান কার্যক্রম গ্রহন করেছে। বর্তমানে চলছে এসব কর্যক্রম।
কুষ্টিয়া ভেড়ামারা পৌরসভায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২০ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে।  এরমধ্যে ৫ কিলোমিটার প্রধান ড্রেন রয়েছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। যা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ৪৫শতাংশের মত ড্রেন পরিস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ড্রেনের কিছু অংশ সংস্কার করা হচ্ছে। একটি  কার্লভার্টসহ ড্রেনের কিছু অংশ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ড্রেন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না করার কারণে ময়লায় ভরাট হয়ে ড্রেনের পানি ভেসে রাস্তায় এসে পড়ে। একারণে রাস্তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এছাড়াও রয়েছে  দুর্গন্ধ। বদ্ধ পানি আবর্জনা  মিলে পঁচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। মশা ও মাছির উপদ্রব  বেড়ে গিয়েছে। এবিষয়ে পৌরবাসির অভিযোগের শেষ নেই। বিষয়টি এবারের পৌর নির্বাচনে ব্যাপক আলোচিত ছিলো। পৌরবাসী জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে নির্বাচনে নতুন মেয়রকে নির্বাচিত করেন।
বর্তমান মেয়র আনোয়ারুল কবির টুটুল পৌরবাসীর পরিবর্তন কেন, তা তিনি যথেষ্ট অবগত। বিধায় তিনি এ বিষয়টি যে পৌরবাসীর প্রধান দাবী, সে জন্যই অগ্রিম প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন।
তবে এবিষয়ে ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদসহ  অনেকেই মন্তব্য করছে, সংস্কার বা পরিস্কার করে জলাবদ্ধতা দুর করা  যাবে না। নতুন প্রকল্প হাতে নিতে হবে। প্রধান ড্রেনের গভীরতা ও চওড়া অপ্রতুল, বিধায় এগুলো ভেঙে নতুন ভাবে আধুনিক ও পরিকল্পনা মোতাবেক দ্রুত নির্মাণ করতে হবে। তাহলে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হবে পাশাপাশি ছোট যেসব  ড্রেনগুলো আছে সেগুলো পুরোপুরি দখলমুক্ত করতে হবে।
পৌর নাগরিক সামছুর রহমান বলেন, ড্রেনগুলো যদি নিয়মিত  পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয় তাহলে জলাবদ্ধতা হবে না। তিনি বলেন অনেক জায়গায় ড্রেন সরু সেখানে ময়লা জমে পানি রাস্তায় এসে পড়ে বিষয়টি পৌর কতৃপক্ষকে দেখতে হবে।
পৌর সভার সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব গোলাম সরোয়ার বলেন, পুরাতন ড্রেনগুলো সচল করে জলাবদ্ধতা যতটুকু সম্ভব কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।  অনেক দখলকৃত ড্রেন উদ্ধার করা হয়েছে। বড় প্রকল্প ছাড়া বড় ড্রেন নির্মাণ সম্ভব নয়।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাছ  থেকে কাজ বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব পালন কারি মনিরুজ্জামান শামিম বলেন, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ড্রেন পরিস্কার সম্পন্ন হয়েছে। বাকী  ওয়ার্ডে পরিস্কার হচ্ছে  সর্বোপরি ৪৫ ভাগ ড্রেনেজ উন্নতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষা মওসুমের আগেই এ কাজ শেষ করার  কঠোর দিকনির্দেশনা দিয়েছে মেয়র মহোদয়। সেভাবেই কাজ চলছে।
৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোলাইমান বলেন, জলাবদ্ধতা দুর করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সাথে আমার এলাকায় কিছু অংশে সংস্কার কাজে হাত দিয়েছি মেয়র মহোদয়  এদিকটা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন।
প্যানেল মেয়র নাইমুল হক বলেন, ৯টি ওয়ার্ডে ড্রেন সংস্কার ও পরিস্কার করা দেখভাল আমি নিজে করছি। যতটুকু সম্ভব ততটুকুই চেষ্টা করে যাচ্ছি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নতি করা। দ্রুত শেষ করতে প্রচুর পরিচ্ছন্নতা কর্মী লাগানো হয়েছে।
ভেড়ামারা পৌরসভার নব নির্বাচিত  মেয়র আনোয়ারুল কবির টুটুল বলেন, এই বর্ষা মওসুমে আমাকে জলাবদ্ধতা মোকাবেলা করতে হবে। বর্তমানে আমার যতটুকু  সামর্থ্য আছে সেটাই  আপাতত শতভাগ কাজে লাগাতে চেষ্টা করছি। এজন্য ড্রেন পরিস্কার সংস্কার, ও কিছু জায়গায় নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের দায়িত্ব  দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্যানেল মেয়র এটা সরাসরি তদারকি করছে।
লোকবলও যথেষ্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বর্ষা  মওসুমে  যতটুকু সম্ভব  জলাবদ্ধতা মোকাবেলা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো। আগামীতে পুরোপুরি জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশার প্রকোপ এ থেকে পৌরবাসীর ভোগান্তি লাঘবে বেশ কিছু বড় পরিকল্পনা  গ্রহণ করেছি। আধুনিক মান সম্পন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এরসাথে রাস্তা ও ফুটপাথসহ পুরো পৌরশহরকে একটি নকশায় আনা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কোন কাজ করলে সমাধান যেমন হবে না বরং সমস্যা বাড়বে। এ প্রকল্প কাজ সামনের অর্থ বছরের মাঝামাঝিতে  শুরু করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাকে পৌরবাসী কি কারনে নির্বাচিত করেছে, তা আমি অবগত। আমি নির্বাচনে যে  প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার মধ্যে জলাবদ্ধতা লাঘবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অন্যতম।

Post a Comment

0 Comments