করোনায় কেমন আছেন বানীশান্তার যৌনকর্মীরা

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৩৪ জন। করোনার এই ভয়াবহ সময়ে কেমন আছেন খুলনার বানীশান্তার যৌনপল্লীরা।
 কথা হয় এই পল্লীর বাসিন্দা লাইজু আক্তারের (২২) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলো নিয়ে ভয়ে আছি। ১২ বছরের মেয়ে আর বৃদ্ধ মাকে নিয়ে অনাহারে থাকার ভয়। দুই হাজার টাকা ঘর ভাড়া দিতে হয়। নিজে বাঁচব নাকি পরিবারকে টাকা পাঠাব তা নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয় সব সময়। আয় কমেছে। কিন্তু খরচ কমাব কিভাবে?’
লাইজু আরও বলেন, ‘আমাদের তো কেউ ভাল চোখে দেখে না। আমি অসুস্থ। ডাক্তার দেখাতি পারছি না। কিন্তু আমরাও তো মানুষ। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নিতেও আমাদের কেউ খবর নেয় না। আমাদের ত্রাণ দরকার। তাছাড়া আর বাঁচার উপায় নেই।’
পল্লীর সভানেত্রী রাজিয়া বেগম বলেন, ‘আমার বয়স ৪৮ বছর। সরকারি বিধিনিষেধের ঘোষণায় কেউ আসে না এখানে। যে কারণে অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এখানকার সবাই। অনেকে ঘর ভাড়া দিতে পারছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই তাদের অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দুর্গম এলাকা বলে এখানকার মেয়েদের ভাল চিকিৎসাও জোটে না। কেউ অসুস্থ হলে বাইরে নেওয়া দুষ্কর। অনেকে যৌন, চর্ম রোগে ভুগছে। ডাক্তার দেখাতে পারছে না।’
বানীশান্তা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুদেপ কুমার রায় বলেন, ‘এ পল্লীর প্রধান সমস্যা নদীভাঙন। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এখানকার ঘরবাড়ি। প্রতিবছর ঝড়-জলোচ্ছ্বাস পল্লীর বাসিন্দাদের নাজেহাল করছে। তারপর করোনাভাইরাস আতঙ্কে পল্লীতে লোক না আসায় অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা।’
যৌনপল্লী প্রসঙ্গে কথা হয় দাকোপের ইউএনও মিন্টু বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যৌনকর্মীদের জন্য তিনতলা আবাসিক ভবন নির্মাণ ও তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থায় শিক্ষাদানের কাজ শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাসিন্দাদের জীবনমান বদলে যাবে।’

Post a Comment

0 Comments