বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভাঙচুর ॥ দুই মাদ্রাসা শিক্ষকের জামিন নাকচ

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাত দুইটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর হয়। পরে এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও কালো কোট পরে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের ওপরে ওঠে। একজনের ব্যাগে থাকা হাতুড়ি দিয়ে ভাস্কর্য ভেঙে নেমে যায়। কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসার দুই শিক্ষকের জামিন নাকচ করে দিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
কুষ্টিয়া জেলা আদালতের বিচারক শেখ আবু তাহের বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল শুনানি শেষে তাদের জামিন নাকচ করেন।
শিক্ষক আল-আমিন ও ইউসুফ আলীর পক্ষে জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবী কাজী তৌহিবুল ইসলাম। ভার্চুয়াল শুনানিতে তার সঙ্গে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এনামুল হক।
তৌহিবুল জানান, গত ১১ এপ্রিল এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে লকডাউনের কারণে সময় পিছিয়ে ১৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। গোপনীয়তা রক্ষায় জামিন আবেদন ও শুনানির বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাত দুইটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর হয়। পরে এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ হয়। ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও কালো কোট পরে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের ওপরে ওঠে। একজনের ব্যাগে থাকা হাতুড়ি দিয়ে ভাস্কর্য ভেঙে নেমে যায়। গত বছর হেফাজত ইসলামসহ ইসলামপন্থি বিভিন্ন সংগঠনের ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এ ঘটনা ঘটে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে পরে কুষ্টিয়া শহরতলীর ইবনি মাসউদ কওমি মাদ্রাসার ওই দুই শিক্ষকসহ দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। চার আসামিই পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আইনজীবী তৌহিবুল ইসলাম বলেন, ‘আসামির পরিবারের সদস্যরা জামিন ধরতে অনুরোধ করেন। এটা আমার পেশা। তাছাড়া যে কোনো আসামিরই আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনগত অধিকার আছে। এই দুই শিক্ষককে সন্দেহের বশে ধরা হয়। জামিন করার চেষ্টা করলাম, হয়নি। এবার আসামির অভিভাবকরা যা ভালো হয় করবেন।

Post a Comment

0 Comments