যৌতুকের প্রাইভেট কারের দাবীতে স্ত্রী সাহিনাকে বাবা'র বাড়ি রেখে গেলো স্বামী

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কি অপরাধ ছিলো সাহিনার। মেধাবী ছাত্রী, ভদ্র, ধার্মিক শান্ত-শিষ্ট স্বভাবের মেয়ে শাহিনা সুলতানা।
স্বামীর ধারাবাহিক যৌতুকের দাবী মিটাতে না পারলে প্রথমে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। সর্বশেষ প্রাইভেট কার অথবা ৫লক্ষ যৌতুকের টাকা দাবি করে। না পেয়ে স্ত্রী সাহিনা সুলতানাকে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে যায় স্বামী আব্দুল ইবনে হাসান অভি।
এর আগে নালিশ মজলিসে দম্ভোক্তি করে বলে গিয়েছে, অন্যত্র বিয়ে করে যৌতুক হিসেবে প্রচুর টাকা নিবে।
পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ার বাসিন্দা শহরের  একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহিনুল ইসলাম শাহিন। তার একমাত্র মেয়ে মোছাঃ সাহিনা সুলতানা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বিএসসিতে অধ্যায়নরত। সাহিনার সাথে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া গ্রামের রাশিদুল ইসলাম সুরুজ মন্ডলের ছেলে আব্দুল ইবনে হাসান অভির গত ০৯/১১/১৮ইং তারিখে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়।
সাহিনার বাবা শিক্ষক শাহিনুল ইসলাম মা ফরিদা ইসলাম জানান, "একমাত্র মেয়ে হওয়ায় বিয়েতে বড় আয়োজন করে ধুমধামের সাথে মেয়ের বিয়ে দেন। এসময় আড়াই লক্ষ টাকার সোনার গহনা দিয়ে মেয়েকে সাজিয়ে দেয় মেয়ের বাবা।
অভি তখন পেশায় একটি ঔষধ কম্পানিতে ঢাকায় চাকরি করতেন। এর ৮ মাস পর নাটোর জেলায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথে চাকরিতে যোগদান করেন।
বিয়েতে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেন মহর ধার্য হয়। বিয়ের আগে কথা ছিল মেয়ের গায়ের গহনা দিয়ে দেনমহর পরিশোধ করবে। কিন্তু পরিশোধ করেনি। উপরন্তু প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নাকফুলের পাথরকে দামী ডায়মন্ড বলে চালিয়ে দেয়। পরে তা ধরা পড়ে।
এরমধ্যেই ছেলে হাসান অভি বিভিন্ন বাহানা করে  মেয়ের বাবার কাছ থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকার সংসারের ইলেকট্রনিকস, আসবাব পত্র আদায় করেন। যৌতুকের দাবীতে অভি এর কিছুদিন পর মেয়ের বাবার কাছে প্রাইভেট কার চেয়ে বসেন। সামান্য বেতনের  বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ধার দেনা করে  হোন্ডা কোম্পানির লিভো মোটরসাইকেল কিনে দেন। এর কিছুদিন পরেই আবার ১লাখ ৫০হাজার টাকা যৌতুক দাবী করেন। মেয়ের বাবা টাকা দিতে না পারলে শাহিনার উপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন।"
শাহিনুল ইসলাম আরও বলেন, মেয়ের স্বামী অভি শুধু নয়, শশুর, শাশুড়ী, ননদ শারিরীক ও মানসিক ভাবে আমার মেয়েকে নির্যাতন চালাতে থাকে। শাহিনা বলে টাকা নেই।  বোঝাতে  চাইলে অভি বলে বাড়ির জমি আমার নামে লিখে দিতে। আর যদি না দেয় তোকে তোর বাবাকে নিয়ে যেতে বল। গত ০২/০৮/২০ তারিখে অভি এক পোশাকে মেয়েকে আমার বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যায়। এরমধ্যে  আর কোন খোঁজ খবর রাখেনি সে। আমি  অনেক আকুতি মিনতি করেছি তারপরও মন গলেনি অভি ও তার পরিবারের।
দুই পরিবারের স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিয়ে বসা হয়। সেখানে জামাই  হাসান অভি পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা না পেলে তালাক দিয়ে আরও একটা বিয়ে করবে বলে হুমকি দেয়। আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে  সে বিয়ে করে যৌতুক নিয়ে দেখিয়ে দেবে বলে  উত্তেজিত হয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়।"
দীর্ঘদিন সাহিনাকে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখেছে। মেয়ের বাবা গত ৪/৪/২১ তারিখে কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ  সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ  আইনের ৩ ধারায় মামলা করেন। মামলা নং সিআর ৮০/২০২১(ভেড়ামারা)। মেয়ের বাবা শাহিন উপযুক্ত বিচার দাবী করেন।
এ বিষয়ে জানতে সাহিনার স্বামী
আব্দুল ইবনে হাসান অভির সাথে  গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি।

Post a Comment

0 Comments