জমিসংক্রান্ত বিরোধে প্রাণ গেল ভিক্ষুকের

কুমারখালি প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবুহার মল্লিক (৮২) নামে এক ভিক্ষুককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার সদকী ইউনিয়নের নন্দী গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি ওই গ্রামের মৃত ফকির মল্লিকের ছেলে। তিনি এলাকায় বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকানির্বাহ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে আবুহার মল্লিক ক্রয়কৃত জমিতে বসতঘর নির্মাণ করছিলেন। এ সময় দরবেশপুর গ্রামের মৃত ডিলার সামছুদ্দিনের ছেলে সোহেল প্রামাণিক, মৃত আলিফার ছেলে কামাল প্রামাণিক, বাহাদুরের ছেলে রাসেল, আলতাফের ছেলে আলামিনসহ কয়েকজন সেখানে আসেন। একপর্যায়ে তারা আবুহার মল্লিককে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পেটের উপর বসে মারধর, লাথি এবং গলা চেপে ধরে গুরুতর আহত অবস্থায় রেখে দ্রুত চলে যায়। এরপর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ে গেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার চিকিৎসা শেষে ভর্তির পরামর্শ দেন। হাসপাতালে দুইদিন ভর্তির পর বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রিলিজ নিয়ে বাড়িতে পৌঁছানোর পর তার মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন, সোহেল প্রামাণিক সমাজের প্রভাবশালী। পুলিশ ও বড় বড় নেতাদের নিয়ে চলে। সোহেলের একটা গ্যাং আছে। সব সময় গরিব মানুষের অত্যাচার করেন। ভয়ে কেউ কিছু বলেন না। সেদিন দুপুরে এসে সোহেল প্রথমে আবুহার মল্লিককে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। এরপর সবাই মিলে লাথি মেরে আহত করে চলে যায়।
অভিযুক্ত সোহেল প্রামাণিক মুঠোফোনে বলেন, স্কুলের জমি নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে মারামারি হচ্ছিল। খবর পেয়ে মারামারি শেষে সেখানে গিয়েছিলাম। আমি তাকে মারিনি। এলাকায় গ্রুপিং এর কারণে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
কুমারখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, শুনেছি জমিসংক্রান্ত জেরে লাথি খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আবুহার মল্লিক। বৃহস্পতিবার রিলিজ নিয়ে বাড়িয়ে গিয়ে তিনি মারা যান। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

Post a Comment

0 Comments