কুষ্টিয়ায় স্কুলের সম্পত্তি আত্মসাৎ : শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় স্কুলের সম্পত্তি আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান (৫৮) ও তার স্ত্রী বিলকিস রহমানের (৪৮) বিরুদ্ধে দুদক পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) তহিদুল ইসলামের আদালতে মামলা দুটি দায়ের করা হয়। দুদকের কুষ্টিয়া জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া স্বাক্ষরিত এজাহারটি আদালতে দাখিল করেন দুদকের কৌশুলী অ্যাডভোকেট আল মুজাহিদ মিঠু।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের স্ত্রী বিলকিস রহমান (৪৮) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা আহরণ করেছেন। দুদকের তদন্তে তিনি এ টাকার উৎসের বিষয়ে কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি। একইভাবে প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আয়ের বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এসএম কাদরী শাকিল বলেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও দুদকের এই পদক্ষেপে আমরা খুশি। তবে দুদক যে কেবল কোটি টাকার সম্পত্তির হিসেব দিচ্ছে, সেই পরিমাণটাও আরও বেশি হওয়ার কথা। সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ বিদ্যালয়টিকে রক্ষার দাবি করছি।’
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. আমিনুল হক রতন বলেন, ‘বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। আমরা অনেকেই দেখেছি কিন্তু মুখ খুলে কিছু বলতে পারিনি। প্রতিষ্ঠানটি এখন কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের আয়ের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আমরা শহরবাসী জানতে চাই, প্রতিষ্ঠানটির কী পরিমাণ সম্পদ লুটপাট হয়েছে।’
দুদকের মামলার বিষয়ে জানার জন্য প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের মুঠোফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. একেএম মুনির বলেন, ‘দুদকের মামলার বিষয়ে আমি শুনেছি। এটা প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয়। স্কুলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’

Post a Comment

0 Comments