মায়ের সাথে দেখা করার অপরাধে নিষ্ঠুরভাবে শিশু শিক্ষার্থীকে কাঠ দিয়ে পেটালেন মাদ্রাসার শিক্ষক

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার এক মাদ্রাসায় অমানবিক নিষ্ঠুরভাবে  শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত  শিক্ষক কে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানাগেছে, ভেড়ামারার ফারাকপুর ফজলুল উলূম কাউমিয়া মাদ্রাসায় গত সোমবার মাদ্রাসার ৬ বছরের নিষ্পাপ ছোট্ট শিশু শিক্ষার্থী আলআমিনকে কাঠের চলা দিয়ে বেদম প্রহার করে সহকারী শিক্ষক আল আমিন। আঘাতে  শিশুটির শরিরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলে কালশিরা দাগ পড়ে যায়। শিশুটির অপরাধ তার মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল।
শিশুটির মা ছেলে আল আমিনের উপর এমন অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতনের ঘটনা সহ্য করতে না পেরে, মাদ্রাসায় যায়। সেখানে  প্রতিকার না পেয়ে আজ বুধবার সকালে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ'র কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করে। এসময় ইউএনও এ ঘটনা শুনে শিশুটির শরিরের অবস্থা দেখে নিজে অনেকটা হতভম্ব হয়ে দুঃখে কাতর হয়ে পড়েন।
তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল মাদ্রাসায় ছুটে যান। এসময় মাদ্রাসার সুপার হাফেজ মোঃ রুহুল আমিন  ও সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সনচয় এবং  ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর  নজরুল ইসলাম নজুসহ অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ আল আমিন কে ডেকে পাঠানো হয়।
মাদ্রাসার অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আলআমিন কে মুচলেকা নিয়ে তাৎক্ষণাৎ বরখাস্ত করা হয়। শিশুটির মা অভিযুক্ত শিক্ষক কে ক্ষমা করায় তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসময় মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
এধরনের ঘটনা  পুনরায় ঘটলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্কবার্তা দেন ইউএনও সোহেল মারুফ।
কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বলেন এ ঘটনায় এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ জঘন্য নিষ্ঠুরতার জন্য শিক্ষক কে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভেড়ামারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ বলেন, ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশু তার পিতা ৫/৬ বছর যাবৎ অপ্রকৃতস্থ। মা বড় আশা করে ছেলেকে ধর্ম শিক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন মাদ্রাসায়।
মায়ের সাথে দেখা করার অপরাধে হুজুর নামধারী শিক্ষক আল আমিন তাকে চেলাই কাঠ দিয়ে সারা গায়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। শিশুটির মা সহ্য করতে না পেরে সকালে  আমার অফিসে চলে আসে।
আমি নির্যাতনের চিন্হ দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম। নির্যাতিত শিশুর মা ক্ষমা করায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি। নির্যাতনকারী অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন'র মুচলেকা নিয়ে তৎক্ষনাৎ বরখাস্ত করা হয়। মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। শিক্ষার নামে শিশু নির্যাতনের কোন সুযোগ নেই।

Post a Comment

0 Comments