ভেড়ামারা পৌর নীতিমালা ভঙ্গ করে ৩তলা ভবন নির্মাণ বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলার দাবি

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ নকশা বহির্ভূত বাড়ি নির্মাণ করা অতঃপর  অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হওয়ার পর ভেড়ামারা পৌরসভা কতৃপক্ষ অবৈধ ভাবে বর্ধিত  নির্মাণের অংশটুকু ভেঙে ফেলার আদেশ দিলেও,  না ভেঙে ভবনের মালিক মোস্তাক গড়িমসি করে সময়ক্ষেপন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ভেড়ামারা পৌরসভা বামনপাড়ার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভুমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোস্তাক হোসেন
পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের জন্য একটি নকশা পৌরসভা থেকে অনুমোদন করেন। কিন্তু অনুমোদনের নকশার বাইরে গিয়ে ভবনটি বর্ধিত করা হয়েছে। যা পৌর নির্মাণ আইনের  বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন -১৯৭৭ পরিপন্থী।
 জমির সীমানা প্রাচীর থেকে  ২ফিট ৯ ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মাণ করার বিধান থাকলেও সে ইচ্ছাকৃত ভাবে  ছাড়েনি। যা একতলা ছাদ থেকে তিন তলার ছাদ বর্ধিত করেছে। বর্তমানে পশ্চিম পার্শ্বে মাত্র ১০ইঞ্চি জায়গা ফাকা রেখেছে।
এমন অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ  করায়  পশ্চিম পার্শ্বের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম নিয়ম বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করার বিরুদ্ধে পৌরসভায়
 দু'দফা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পৌর মেয়রের কাছে। সেখানে সাবেক মেয়র বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলার জন্য আদেশও জারি করেন। স্বারক নং বিপনি/বেঃসঃা/০৬/৯৫/২০২০-২০২১. নির্বাচন পরবর্তীতে নতুন মেয়র বরাবর আরেকটি অনুরুপ দরখাস্ত জমা  দিলে নতুন মেয়র মহোদয়   সার্ভেয়ার রাম বাবুকে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। রাম বাবু যেহেতু পূর্বের থেকেই এটা অবগত তাই আবারও  সরেজমিনে এসে তদন্ত করে যান। এ বিষয়ে সার্ভেয়ার রাম বাবু বলেন, অভিযোগ সত্য, যেহেতু পাশের বাসিন্দা  অভিযোগ দিয়েছেন সেখানে বর্ধিত অংশ ভাংগা লাগবে। তবে দুই পক্ষের নিয়ে বসে সমাধান করতে হবে।
পার্শ্ববর্তী বাড়ির মালিক রবিউল ইসলাম বলেন,১তলার ছাদ থেকে তিনতলা পর্যন্ত ভবন বর্ধিত করেছে যা অবৈধ। এবং  ভবন নির্মাণ করার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করেই ভবন নির্মাণ করেছে। এতে আমার জমিতে ও টিনের চালে ইট, খোয়া, বালু সিমেন্ট পড়ে টিন ফুটো হয়ে গেছে। যা আমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। এছাড়াও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করেছি।  বার বার তার কাছে এসব বিষয়ে অভিযোগ দিলেও বাড়ির মালিক মোস্তাক  ব্যবস্থা নেয়নি ও কর্নপাত করেননি। পৌর নোটিশের আদেশের দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং মেয়র মহোদয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এমনটাই আমি আশা রাখি।
স্থানীয়রা  বলেন, নিয়ম'ত ভঙ্গ করেছেই। পুর্ব পাশে  নিজের সীমানা পার করে ফেলেছে, ভবনের সিড়ি ঘরের অংশ।  নির্মাণ করার সময় চট বা ত্রিপল অথবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখেনি ।  এসব ব্যবস্থা না করায় পরিবেশের যেমন ক্ষতি হয়েছে ও মানুষের জানমাল ঝুঁকির মধ্যে  ছিলো। এ বিষয় গুলো কতৃপক্ষের দেখা উচিত।
সাবেক কাউন্সিলর, আইনজীবী ও সাংবাদিক মনিরউদ্দিন বলেন, ভবনের মালিক মোস্তাক আইন অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ না করে, যে অপরাধ করেছে, তা তার জন্য মানানসই নয়, কারন সে সরকারি চাকরি করে।
ভুমি বিভাগের একজন কর্মকর্তা। আইন না মেনে তিনি অপরাধ করেছেন। আইন ও নিয়মকে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। যা আইনের প্রতি অশ্রদ্ধার সামিল। আমি চাই  পৌর নীতিমালা সবাই মেনে বাড়ি নির্মাণ করুক। তার অবৈধ বর্ধিত বাড়ির অংশটুকু ভেঙে পৌর কতৃপক্ষের আদেশ বাস্তবায়ন করে পৌর নীতিমালার আইনকে সম্মান দেখাক।
অভিযুক্ত বাড়ির মালিক মোস্তাক হোসেন বলেন, বর্ধিত অংশটুকু ভেঙে ফেলতে পৌরসভার  একটি নোটিশ পেয়েছি।  অভিযোগ কারী এবং পৌর কতৃপক্ষের সাথে বসে এর  দ্রুত সমাধান করে ফেলবো।  
এ বিষয়ে ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র আনোয়ারুল কবির টুটুল  কড়া নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের ১৯৭৭ পৌর নীতিমালা মেনেই সকল কে ভবন নির্মাণ করতে হবে।  অভিযোগ দেওয়ার পেক্ষিতে সার্ভেয়ার রাম বাবু কে ঘটনাস্থলে গিয়ে  যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।  
বাড়ির মালিক নকশা বহির্ভূত বর্ধিত যদি করে থাকে,  অবশ্যই  তা ভাংতে হবে। নীতিমালার বাইরে কারও যাওয়ার সুযোগ নেই। বেআইনি কাজে কাউকেই কিছু করতে দেওয়া ও প্রশয় দেওয়া হবে না। আইন মেনে চললে সমাজে এ ধরনের  সমস্যায় থাকবে না।
তিনি সকলকেই ভবন নির্মাণের নীতিমালা মেনেই কাজ করার অনুরোধ জানান।

Post a Comment

0 Comments