ভেড়ামারার জুনিয়াদহে মসজিদের জায়গা দখলের অপচেষ্টা!


চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নে জুনিয়াদহ বাজারের পাশে মসজিদের জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেওয়া জমি দখলের হীন অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি পক্ষ। এ বিষয়ে মসজিদ কমিটি জমি উদ্ধারে তৎপর হলে দখলকারী দখল পাকাপোক্ত করতে ওই জমিতে বসতঘর সংস্কার করে দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানান মসজিদ কমিটি। মসজিদ কমিটি জায়গা খালি করার একটি নোটিশ পাঠানোর পর পরই ৩০বছর পর হঠাৎ আবারও জায়গায় গিয়ে দখল না ছেড়ে গত ০১/০২/২১ তারিখে দখল নিতে পুরাতন বাড়ি সংস্কার করতে তৎপর হয়ে উঠে দখলদার হাফেজ আব্দুল কালাম।

পরে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসুল্লি এবং বাসিন্দারা ইউপি সদস্য (মেম্বর) তারিকুল ইসলাম কে সাথে নিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু দখল এখনো ছাড়িনি বলে জানিয়ছেন জুনিয়াদহ বড় ও ছোট  মসজিদ'র সভাপতি নাসির উদ্দীন। এদিকে দখলকারী হাফেজ আব্দুল কালাম'র সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে  এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাসেম মিয়ার জমিতে আমি বাড়ি করে আছি। এটাত মসজিদের দানকৃত সম্পত্তি আপনি দখলে রেখেছেন কেন? জানতে চাইলে, আবদুল কালাম বলেন, মসজিদের নামে জমি আগে, না আমার বাড়ি আগে ও সব আমি বুঝি না, বাড়ি আমার ও জায়গাও আমার, আমি জমি ছাড়বো না। রায় হয়েছে সেটাও কি মানেন না, জানতে চাইলে, তিনি বলেন না মানি না।

এ বিষয়ে জুনিয়াদহ গিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, দান কৃত জমির মালিক  মৃত খন্দকার কাসেম মিয়া ১৯/০১/৬০ সালে জুনিয়াদহ বাজারের পাশে ৫১ শতকের মধ্যে ৪২  শতক জমি বড় মসজিদ ও ছোট মসজিদে ওয়াকফ করে দেন। বাকি ৯ শতক জমির মধ্যে ৪ শতক জমির উপর বাড়ি করে অস্থায়ী ভাবে বসবাস করে সিরাজ খাঁ। ৫ শতক জমি বিক্রি করে দেয় কাসেম মিয়ার শরিকরা।  বিক্রির ৫শতক জায়গা বিক্রির মধ্যে পড়লে সিরাজ খাঁ চলে যায়। তাও ৩০ বছর হলো চলে যাওয়া। এ পর্যন্ত বাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে দীর্ঘদিন।

এরই মধ্যে মসজিদ জায়গা বুঝে নিতে গত ২০/০১/২১ তারিখে দখলকৃত জায়গায় ইমারত সড়াতে নোটিশ পাঠানো হলে উল্টো ০১/০২/২১ তারিখে দখলকারী সিরাজ খাঁর ছেলে হাফেজ আবুল কালাম দিং পরিত্যক্ত বাড়ি সংস্কার কাজ শুরু করে। মসজিদ কমিটির আপত্তি  আবেদনের পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু দখল না ছেড়ে ওই বাড়িতে এখনও বসবাস করার চেষ্টা করছে আবুল কালাম! অথচ তার ভেড়ামারা শহরের নওদাপাড়ায় নিজ জমিতে একটি বাড়ি রয়েছে। দখলকারী শরিকের জমিতে আছে এমন দাবি করলেও মৃত কাসেম মিয়ার শরিকদের সাথে বন্ঠন নামা মামলার রায় হয় ২১/০৪/২০১১ তারিখে। রায় মৃত কাসেম মিয়ার পক্ষে হয়। ওয়াকফ নামা দলিল নং-৭০৪৭। কাসেম মিয়ার নাতি ছেলে আমজাদুর রহমান রুমেল জানান, আমার দাদা বড় মসজিদ ও ছোট মসজিদের নামে জমি ওয়াকফ করে দিয়ে যান।

দখলদার দখল ছেড়ে চলেও যান কিন্তু  কি কারনে তিনি ৩০ বছরে জমি খালি না করে সম্পত্তি দখলে রেখেছন তা রহস্য। দখলকারী হাফেজ মোঃ আব্দুল কালাম’র বাবা ছিলো ৩০ বছর আগে। ওনি আমাদের শরিক নয়, আবার তার ছেলে আব্দুল কালাম ভেড়ামারা শহরের  নাগরিক। ভোটারও ওখানে। সেখানেই বাড়ি।

তিনি কি করে এ জায়গা তার দাবি করে দখলে রাখে? মসজিদের ভারপ্রাপ্ত মোতাল্লী ও দানকারী মৃত কাসেম মিয়ার নাতি ছেলে মিজানুর রহমান বিদুৎ জানান, দাদার শরিকদের সাথে বন্ঠন নামা মামলা চলে সেই রায়ও ২০১১ সালে চুড়ান্ত রায় হয় দাদার ওয়াকফ মালিকানা অর্থাৎ মসজিদ কমিটির পক্ষে আসে  তারপরও কেন জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে না প্রশ্ন।
মসজিদ কমিটির নাসির উদ্দীন জানান, দখল তো ছাড়িনি উল্টো বাড়ি মেরামত করে দখল পাকাপোক্ত করতে  ৩০ বছর পর হঠাৎ বাড়িতে উঠেছে। আমরা মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে  ইউপি সদস্য বরাবর মসজিদের নামে রেকর্ডকৃত সম্পত্তিতে  অবৈধ ভাবে প্রাচীর, পায়খান ও বাড়ি নির্মাণ ও মেরামত করছে এই মর্মে দরখাস্ত দিয়েছি।

তিনি জোর দাবি নিয়ে জানান, হাফেজ আব্দুল কালাম দিং পিতা সিরাজ খাঁ কি ভাবে দখল করে রাখে। আমাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে তদন্ত পুর্বক  ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছি।

স্থানীয় লোকজন ও মুসুল্লিরা  জানান, মসজিদের জায়গা নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। জায়গা দখলের অপচেষ্টা যারা চালাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মসজিদের জায়গা উদ্ধারে সকলের সুদৃষ্টি ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Post a Comment

0 Comments