কুষ্টিয়ায় বকেয়া পরিশোধের দাবিতে মল ফেলে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ বেতনের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে মল ঢেলে বিক্ষোভ করেছেন হরিজন সম্প্রদায়ের লোকেরা। বুধবার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মো. তৌহিদুল ইসলামের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন হরিজন সম্প্রদায়ের মালতি রানী, রুমাসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদের সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত বেতন বকেয়া। দিনের পর দিন তাদের বেতন না দিয়ে টালবাহনা করা হচ্ছে। বরং বেতন চাইতে গেলে উল্টো নানাভাবে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া থাকায় শিশুসন্তান, পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। হাট-বাজার, মুদি দোকানে অনেক টাকা বাকি পাওয়ায় দোকানদাররা তাদের এখন আর বাকি দিচ্ছেন না। তারা বাধ্য হয়ে পথে নেমেছেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, অগ্রাধিকার থাকা সত্ত্বেও এ প্রতিষ্ঠানে ক্লিনার, ঝাড়ুদার, সুইপার পদে হরিজনদের বাদ দিয়ে যারা হরিজন নন এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
হরিজনদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জজ কোর্টের নাজির আলাউদ্দিন জানান, কুষ্টিয়া জজ কোর্টে তিনজন সুইপার/ঝাড়ুদার, মালি, নৈশপ্রহরী সব মিলিয়ে ১৩ জন কর্মরত। এরা প্রত্যেকেই অস্থায়ী ভিত্তিতে দৈনিক ১৫০ টাকা হাজিরায় কাজ করেন। পাঁচ-ছয় মাস পর পর আনুষঙ্গিক খাত থেকে তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়। এবার বেশ কয়েক মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। যে কারণে তারা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন।
তিনি জানান, পরে ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ মো. তৌহিদুল ইসলাম আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

Post a Comment

0 Comments