ভেড়ামারার জুনিয়াদহে মামুন মুন্সির প্রতারণার ফাঁদে সর্বশান্ত হয়ে দিশেহারা ভুক্তভোগী পরিবারটি


চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের মুন্সী পাড়ায় এক প্রবাসী পরিবার কে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সর্বোচ্চ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরুষ অভিভাবক শুন্য পরিবারটি সব হারিয়ে এখন দিশেহারা প্রতিকার পেতে বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দেওয়ায় উল্টো মামলা এবং একাধিক উকিল নোটিশ পাঠানো ও বেশী বাড়াবাড়ি না করতে পরিবারের সদস্যদের হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

জানা গেছে, জুনিয়াদহ ইউনিয়ন মুন্সি পাড়ার খবির উদ্দিনের ছেলে মামুন মুন্সী স্থানীয় ভাবে সুদের কারবারের সাথে জড়িত। প্রতারণার শিকার একই গ্রামের প্রবাসী জহুরুলের স্ত্রী জেসমিন খাতুনের দুই দেবর রফিকুল ও রবিউল কে ১লাখ ২৫হাজার চড়া সুদে টাকা দেয় এক বছরের চুক্তির ভিত্তিতে ২লাখ টাকা পরিশোধ এই মর্মে।

টাকা দিতে ব্যার্থ হলে দুই ভাইয়ের জমি লিখে নেয় মামুন মুন্সী। এখানেই শেষ নয়, আধা কাঠা জেসমিনের শ্বাশুড়ির জমি সহ কায়দা করে লিখে নেন তার সাথে। এমন ঘটনা ধরা পড়ে বাড়িসহজমি দখল করার সময়।

এরপর এ জমি বিক্রি করবে এমন কথা জেসমিন খাতুনের কাছে জানান, মামুন মুন্সী জেসমিন জানায়, এত টাকা তার কাছে নেই। মামুন মুন্সী পরামর্শ দেয় কয়েকটি সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ার ব্যাবস্থা করবে সে জামিনদার হবে বলেও জানায়, কথা মাফিক ৫টি সমিতি থেকে ঋণ নেয় জেসমিন। সাক্ষী জামিনদার হয় মামুন। এরপর টাকা উত্তোলনের পর পরই মামুন বলে টাকা আমার আজকেই দরকার কিছু টাকা দাও জমি সামনের সপ্তাহের মধ্যে রেজিষ্ট্রি করে দিবো। জমি রেজিস্ট্রার করার দিন হাতে টাকা নিয়ে বলে আজ রেজিস্ট্রি হবে না কয়দিন পর।

এরপরই সম্পুর্ন ভোল পাল্টে ফেলে মামুন মুন্সী। পুরুষ বিহীন পরিবারে মামুন মুন্সী জেসমিন কে টাকা দিবে এর জন্য চেক দরকার এমন প্রতারণার ফাঁদে ফেলে একটি খালি চেকবইয়ের পাতাও হাতিয়ে নেয়।

এর কিছু দিন পরেই জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্যে জেসমিন মামুন কে চাপাচাপি করলে, মামুন মুন্সী বলেন, কিসের জমি বিক্রি। জেসমিন টাকা ফেরত চাইলে, মামুন মুন্সী জেসমিন হুমকি ধামকি দিয়ে বলে কোন টাকা পয়সা আমি নেইনি। এরপরে মামুন আদালতে মামলা দায়ের করেছে এই মর্মে জেসমিনসহ ছেলে রাব্বি ও মেয়ে সুখী এবং ননদ নারগিস কে নিয়ে মামুনের বাড়িতে হামলা ভাংচুর করেছে এমন অভিযোগে যা সম্পুর্ন মিথ্যা বলে জানান এলাকাবাসী। এরপর চেক প্রতারণার মামলাও ঠুকে দিয়েছে চতুর প্রতারক মামুন মুন্সী।

জেসমিনের স্বামী জহুরুল প্রবাসে থাকে সল্প বেতনে। এখন অসহায় পরিবারটি সব হারিয়ে দিশেহারা এনজিও গুলি কিস্তি পরিশোধের তাগাদা সব মিলিয়ে পরিবারের সদস্যদের অবস্থা খুবই খারাপ। সমাজে বিচার চেয়েও পায়নি। এব্যাপারে জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ঐ গ্রামে গিয়ে জেসমিনদের পরিবারের সাথে প্রতারণার করার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী পরিবার টি ন্যায় বিচার চেয়েছে এলাকার সচেতন মানুষের কাছে প্রশাসনের কাছে। তারা প্রতিকার চেয়ে মামুন মুন্সীর বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে, এবং আদালতেও একটি মামলা দায়ের করেছে। এখন ন্যায় বিচারের আশায় চেয়ে আছে। কিন্তু কিস্তিটা কাল হয়ে দাড়িয়েছে টাকা শোধ করার কোন অবলম্বন নেই।

এবিষয়ে এই প্রতিবেদক মুঠোফোনে মামুন মুন্সীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন। আমিই তাদের কাছে টাকা পাই চেক কেস করেছি। আমার পাঁচ লাখ টাকাও তাদের দিতে হবে।

Post a Comment

0 Comments