কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ ॥ নিহত-১ ॥ আহত-৭

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই কাউন্সিলর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সোহেল সরকার (৪৮) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ত্রিমোহনী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭জন। আহতদের মধ্যে দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার রাত কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৩ নম্বর বারখাদা ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আগামী ১৬ জানুয়ারি এই পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান, তাঁর ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা রমজান আলী, সমর্থক সোহেল সরকারসহ কয়েকজন ত্রিমোহনী বটতলা মোড়ে প্রচারণার কাজ করছিলেন। এ সময় বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী রবিউল ইসলাম তাঁর কর্মীসমর্থকদের নিয়ে সেখানে হাজির হন। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় সোহেলকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন প্রতিপক্ষের লোকজন। মাটিতে পড়ে গিয়ে সোহেল অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় মাজহারুল ইসলাম রমজান ও মোস্তাফিজুর রহমান নামের দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, রবিউলের লোকজন তাঁর কর্মীসমর্থকদের ওপর হামলা চালান। সোহেলকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় মাটিতে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ও আমার লোকজন এ ঘটনায় জড়িত নই। সোহেল আমার বন্ধু। ঘটনার সময় সে সেখানে থাকলেও তার ওপর হামলা হয়নি। মাহবুবুরের লোকজন আমাকে আটকানোর চেষ্টা করলে এ সংঘর্ষ হয়।’
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, স্ট্রোক করে মারা যাওয়া সোহেল নামের একজনকে রাতে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে পরিবারের লোকজন ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিয়ে গেছেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, রাতে দুই প্রার্থীর কর্মীসমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন মারা গেছেন। এ বিষয়ে মামলা নেওয়া হবে। এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি শান্ত।

Post a Comment

0 Comments