কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু’র নির্মানাধীণ ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান'র নির্মানাধীণ ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের উদ্দ্যোগে আগামী ১৭-ই ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার সময় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।
ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক চেতনায় কুষ্টিয়া পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক হিসনাবাণী পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আরিফুজ্জামান লিপটন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনীপেশা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিকদের প্রতি উক্ত সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
২ ছাত্রের আদালতে স্বীকারোক্তি।
পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের মামলার দুই আসামি মাদ্রাসাছাত্র আবু বক্কর ওরফে মিঠুন (১৯) ও সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ (২০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মাদ্রাসা ইবনে মাসউদের হেফজ বিভাগের ছাত্র মিঠুন ও নাহিদকে আদালতে তোলা হয়।
কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক দেলোয়ার হোসেনের কাছে তারা জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে বিকেল সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এই নিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়ার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  
আদালত সূত্র জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মিঠুন ও নাহিদ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের কথা স্বীকার করেছেন। তারা মামুনুল হক ও ফায়জুল ইসলামের বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাস্কর্য ভাঙচুরের সিদ্ধান্ত নেয়। ভাঙচুরের ২/৩ দিন আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে।
মামলার অপর দুই আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী ও মো. আল আমীন চারদিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (১২ ডিসেম্বর) একই আদালতে জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুষ্টিয়ার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার জানান, গত ৪ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহরে নির্মাণাধীন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় আটক চারজনকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিজ্ঞ আদালত ৮ ডিসেম্বর মাদ্রাসার দুই ছাত্রের পাঁচ দিন এবং দুই শিক্ষকের চার দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২ শিক্ষকের স্বীকারোক্তি।
কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে মাদ্রাসার দুই শিক্ষক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেন তাদের জবানবন্দি নেন। চারদিনের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে নেয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) নিশি কান্ত সরকার তাদের আদালতে নেন।
আদালত সূত্র জানায়, দুই মাদ্রাসা শিক্ষক আল আমিন ও ইউসুফ আলীকে পুলিশের পাহারায় আদালতে নেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেন তার খাসকামরায় প্রথমে ইউসুফ আলীর জবানবন্দি নেন। ঘণ্টাব্যাপী জবানবন্দি শেষে পৃথকভাবে আল আমিনেরও জবানবন্দি নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে জবানবন্দি শেষে দুই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়।
রোববার (১৩ ডিসেম্বর) মামলার অন্যতম প্রধান দুই আসামি মাদ্রাসার দুই ছাত্রের ৫দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post