কুষ্টিয়ায় বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর ॥ কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসসহ গ্রেপ্তার-৩

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসসহ (৩৮) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে । কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) তানভীর আরাফাত শনিবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার বাকি দুজন সবুজ হোসেন (২২) ও হৃদয় আহমেদ (২১)। এ ছাড়া বাচ্চু (৩৫) নামের একজন পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এর আগে ৪ ডিসেম্বর রাতে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ মাদ্রাসার দুই শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) তানভীর আরাফাত বলেন, আনিসুরের সঙ্গে কয়া মহাবিদ্যালয় (কলেজ) কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্ব আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সহযোগীদের নিয়ে তিনি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সড়কের পাশে স্থাপিত বাঘা যতীনের ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করেন। বৃহস্পতিবার রাতে কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে বাঘা যতীনের ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে কয়া কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। বিষয়টি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীণ ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনার রেশ থাকতেই বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা বাঘা যতীনের আবক্ষ ভাস্কর্যটি রাতের আঁধারে দূর্বৃত্তরা ভাঙল; এটা খুবই দুঃখজনক।
কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান বলেন, কয়া গ্রামের বাঘা যতীন কলেজ চত্বরে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর বিপ্লবী বাঘা যতীনের এই আবক্ষ মূর্তিটি স্থাপন করা হয়।
কুষ্টিয়ার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের নেতা কারশেদ আলম বলেন, এখানে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরে দেশব্যাপী প্রতিবাদের মধ্যেই বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্যটি ভাঙা হলো। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারি দলের নেতাদেরও আটক করেছে পুলিশ।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা ছিলেন বাঘা যতীন। কয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একাই বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বাঘ হত্যা করেছিলেন বলে বাঘা যতীন নামে পরিচিত পেয়েছিলেন। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে গ্রামের কলেজের সামনে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুস সামাদ ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেছিলেন।
বিপ্লবী বাঘা  যতীনের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সংবাদ সম্মেলন
কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার রেস কাটতে না কাটতেই কুমারখালীতে বিপ্লব বাঘা যতীনের ভাস্কর্যের নাক ও মুখের আংশিক অংশ ভেঙেছে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা। ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুমারখালী উপজেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি কুমারখালী শাখা আয়োজনে,  গণমোড়ে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় সাংবাদ সম্মেলন বক্তব্য রাখেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি এটি এম আবুল মনছুর মজনু, সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতি কুমারখালী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহসান বরুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ হোসেন মানু । মনিরা হোসেন মেরী সঞ্চালনায় সাংবাদ সম্মেলন । বক্তারা  বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ১৭  ডিসেম্বর রাতে কয়া কলেজ প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য ভাংচুরের সাথে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িকক অপশক্তির হুমকির তীব্র প্রতিবাদ করছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। বাঘা যতীনের ভাস্কর্য যারা, ভেঙেছে এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

Post a Comment

0 Comments