Header Ads

কুমারখালীতে ফার্মেসি চলছে ফার্মাসিস্ট ছাড়াই । বেশির ভাগেরই নেই ড্রাগ লাইসেন্স

কুমারখালী প্রতিনিধি । কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা  অধিকাংশই ফার্মেসিতে, ফার্মাসিস্ট ছাড়াই চলছে ফার্মেসি। বাংলাদেশ  ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের নির্দেশনা না মেনে ড্রাগ লাইসেন্স ও প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই চলছে উপজেলা জুড়ে শত-শত ফার্মেসি। ড্রাগ লাইসেন্স ও ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব ফার্মেসি থেকে অবাধে  বিক্রি হচ্ছে যে কোনো ওষুধ। যার ফলে জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। এসব ফার্মেসিতে বিক্রি হচ্ছে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ। অনেকেই এসব ফার্মেসির ওষুধ খেয়ে নানারকম স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুকছেন। গ্ৰামের বেশিরভাগ ফার্মেসি মালিক নিজেদের ডাক্তার পরিচয় দেয়।  নিজেই রোগীদের চিকিৎসা করেন। এদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই ‌।
উপজেলার গ্ৰাম ও শহর ঘুরে দেখা  যায়, উপজেলা জুড়ে শত- শত ফার্মেসি রয়েছে, এর মধ্যে কিছু সংখ্যক ছাড়া, বেশির ভাগ ফার্মেসি ব্যবসায়ীদের নেই ফার্মাসিস্ট, নেই কোন ড্রাগ লাইসেন্স। লাইসেন্সবিহীন এসব ফার্মেসিতে অদক্ষ প্রতিনিধি দিয়ে ওষুধ বিক্রি করে আসছেন বছরের পর বছর ধরে। অধিকাংশই  কোনো এক ওষুধের দোকানে কিছু দিন কাজ করে কিছু ওষুধের নাম শিখে নিজেই শুরু করেন ওষুধ ব্যবসা।এরাই আবার অনেকেই নিজেকে ডাক্তার বলে সাইনবোর্ডে পরিচয় দেন। উপজেলা জুড়ে  অলিতে-গলিতে গড়ে উঠেছে এই ফার্মেসি। এসব ফার্মেসিতে আসা রোগীরা ওষুধ বিক্রেতার হাতে চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই মৃত্যুর মুখে পড়ছেন। ওষুধ প্রশাসনের নিয়ম রয়েছে যাদের ফার্মাসিস্ট সনদ রয়েছে শুধু তাদেরই ড্রাগ লাইসেন্স দেওয়া হবে। অথচ  শত -শত ওষুধ ফার্মেসিতে নেই কোন ড্রাগ লাইসেন্স, নেই ফার্মাসিস্ট। মানসম্পন্ন ওষুধ এবং ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি করতে ইতিমধ্যে ফার্মেসি এবং ওষুধের দোকান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছে সরকার। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী লেভেল-১ ফার্মেসি ওষুধের দোকানে থাকবেন কমপক্ষে একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী ফার্মাসিস্ট। তাছাড়া লেভেল-২ ফার্মেসি ওষুধের  দোকানে থাকবেন কমপক্ষে ডিপ্লোমাধারী ফার্মাসিস্ট।
এ বিষয়ে কুমারখালী ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিরো বিশ্বাস বলেন, অনেকের ফার্মাসিস্ট  সার্টিফিকেট রয়েছে কিন্তু সরকারিভাবে ড্রাগ লাইসেন্স নেই, এগুলো পর্যায়ক্রমে হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন,  গ্ৰাম গঞ্জে অনেক ওষুধের দোকান হয়েছে এটা ওষুধ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, এই বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। তিনি আরো বলেন, করোনার সময় ওষুধ ব্যবসায়ীরাই রোগীদের সেবা দিয়েছেন। অনেক ডাক্তার, হাসপাতাল কিংবা নিজস্ব চেম্বারে কাউকে পাওয়া যায়নি। জ্বর, ঠান্ডাজনিত রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ফার্মেসি থেকে।
কুষ্টিয়া ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোঃ আল মামুন বলেন, আমাদের জনবলের অভাব, যানবাহন স্বল্পতা রয়েছে। তবে যাদের ড্রাগ লাইসেন্স নেই তাদের কোন রকম  ছাড় দেবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কুমারখালী উপজেলা জুড়ে প্রায় শতাধিকের উপর ফার্মেসির লাইসেন্স রয়েছে। সচেতন মহলের দাবি এই মুহূর্তে ওষুধ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে জনসাধারণ।

No comments

Powered by Blogger.