Header Ads

দৌলতপুরে দিনমজুর বাবার স্বপ্নের মেয়েটি আজ শুধুই ‘কঙ্কাল’

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ দিনমজুর বাবার সীমাহীন স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছে নিয়েই কলেজে গিয়েছিলেন মিম (১৯)। নিজেরও স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা নেবেন। পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করবেন। বড় দুই বোন বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি। সবার ছোট মেয়েটি মনে মনে সেই আক্ষেপ মেটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোন এক ঝড় এসে দিনমজুর পরিবারটি তছনছ করে দিয়ে গেল। যাকে অবলম্বন করে সেই পরিবার দেখছিল সীমাহীন স্বপ্ন সেই মেয়েটিই আজ কঙ্কালে পরিণত।
মিম খাতুন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া গ্রামের মতিয়ার খাঁ ওরফে মধু খাঁর মেয়ে এবং মিরপুরের আমলা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। কলেজপড়ুয়া মেয়েকে হারিয়ে দিনমজুর মধু খাঁর পরিবারে আজ শুধুই হাহাকার। পরিবারের দাবি, মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
গেল ১৭ আগস্ট মিম বাড়ি থেকে নানাবাড়ি মিরপুরের সুলতানপুর গ্রামে যান। সেখানে এক দিন থেকে পরদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ আশপাশের গ্রামে কয়েকদিন ধরে মেয়ের সন্ধান করে পরিবারের লোকজন।
প্রায় তিন মাস পর শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামে মাদ্রাসার পেছনে মাথাভাঙ্গা নদীর কিনারা থেকে মিমের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। কঙ্কালের পাশ থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগে জেএসসির সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। তাতে তার নাম মিম, ঠিকানা কুষ্টিয়া দৌলতপুর লেখা ছিল।
মৃত্যুরহস্য জানতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কঙ্কালটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আব্দুল খালেক জানান, ঘটনাস্থল থেকে নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এসময় কঙ্কালের পরনের জামা কাপড়, ভ্যানিটি ব্যাগ ও কিছু কাগজপত্র পাওয়া যায়। ওসি আরো জানান, তিনমাস আগে এলাকার এক ছেলের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় তরুণীটি।

No comments

Powered by Blogger.