বাকী বিল্লাহর অপেক্ষায় স্বজনেরা

আট বছরের ছেলেকে মাদ্রাসায় দিতে যাচ্ছিলেন বাকী বিল্লাহ। ভবনের ফটকে অপরিচিত দুজনকে দেখে ছেলেকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। প্রায় দুই সপ্তাহ হলো বাকী বিল্লাহ আর ফেরেননি। এই ঘটনায় রাজধানীর তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে তাঁর পরিবার।
বাকী বিল্লাহ একজন ফ্রিল্যান্সার। কাজ করতেন আউটসোর্সিংয়ের বড় বাজার ‘আপওয়ার্কে’। তুরাগের নলভোগে দশতলা একটি ভবনের তিনতলায় আট ও আড়াই বছর বয়সী দুই সন্তান ও স্ত্রী কুলসুম বেগমকে নিয়ে থাকতেন।
গতকাল সোমবার কুলসুম বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ১২ নভেম্বর তাঁর স্বামী তাঁদের বড় ছেলেকে মাদ্রাসায় নামিয়ে দিতে গিয়েছিলেন। পরে ওই ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর কাছ থেকে জানতে পারেন, আগে থেকেই দুজন তাঁর স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দু-তিনটে কথা বলেই তাঁরা বাকী বিল্লাহকে সাদা রঙের একটি হাইয়েস গাড়িতে তুলে নেন। অপেক্ষমাণ দুজন নিজেদের ‘ডিবি’ কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন।
বাকী বিল্লাহকে তুলে নেওয়ার খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন তুরাগ থানায় যান। থানা পাঁচ দিন ঘোরানোর পর তাঁদের জিডি নেয়। তবে জিডিতে বাকী বিল্লাহকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয় উল্লেখ করতে পারেনি পরিবার। অনেক চেষ্টার পর জিডি করতে পারলেও পুলিশের দিক থেকে বাকী বিল্লাহকে খুঁজে দেখার কোনো উদ্যোগ তাঁদের চোখে পড়েনি। বাকী বিল্লাহকে খোঁজার দায়িত্ব পড়েছে তুরাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নির্মল চন্দ্র দের ওপর।
নির্মল চন্দ্র দে প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ বাকী বিল্লাহর কললিস্ট সংগ্রহ করেছে। যেদিন তিনি নিখোঁজ হন, সেদিন থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ। এর আগে তাঁর নম্বর থেকে কাউকে ফোন করার কোনো তথ্য নেই। তিনি শুধু খুদে বার্তা বিনিময় করেছেন। এই খুদে বার্তাগুলো যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।
বাকী বিল্লাহর স্ত্রী কুলসুম বেগম বলেন, তাঁর স্বামী কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে তিনি জানেন না। ছাত্রজীবনে মেধাবী ছিলেন। নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। খরচ জোগাতে পারেননি বলে বছর দেড়েক পর লেখাপড়া ছেড়ে দেন। এরপর থেকে অনলাইনেই বিভিন্ন কাজ করতেন। তিনি ও তাঁর সন্তানেরা বাকী বিল্লাহকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চান।
বাকী বিল্লাহর গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬দাগ গ্রামের হাসপাতালের পাশে।
সংগৃহীত প্রথম আলো ডটকম

Post a Comment

0 Comments