কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের মাজারে কোলাহল নেই

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ প্রতিবছর পহেলো ১ কার্তিক আড়ম্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস পালন করা হয়। কিন্ত এবারের আয়োজনে বাধা করোনা। স্থগিত করা হয়েছে তিরোধান দিবসের সব আয়োজন। অনুষ্ঠান না হাওয়ায় হতাশ লালন ভক্ত ও অনুরাগীরা। বছরের এই সময় মাজার প্রাঙ্গণ লালন শাহের সাধু-ভক্তের পদচারণায় মুখর থাকলেও এবার তা একেবারেই ফাঁকা। দু-একজন বাউল সাধক বিচ্ছিন্নভাবে আসলেও মাজারে ঢুকতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। মাজারের প্রবেশদ্বার তালাবদ্ধ। ভেতরে কেউ প্রবেশ করতে পারছেন না। অনেকে আবার মাজার প্রাঙ্গণ তালাবদ্ধ দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
করোনা পরিস্থিতির কারণে আগামী ১ কার্তিক (১৭ অক্টোবর) লালনের ১৩০তম তিরোধান দিবসের সব আয়োজন বন্ধ ঘোষণা করেছেন কুষ্টিয়া লালন একাডেমি। ৪ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন।
তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় এখন পর্যন্ত অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত অবস্থায় আছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে যদি বড় ধরনের গণজমায়েত করা হয়, তাহলে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় লালনের মাজার প্রাঙ্গণে প্রতি বছরের মতো এ বছর বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবস পালন করা সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন এই স্মরণোৎসব চালিয়ে আসছে।

Post a Comment

0 Comments