ভেড়ামারায় প্রতারনার মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে ভূমি দস্যু হাজী আব্দুল আজিজ গংদের বিরুদ্ধে

চেতনায় কুষ্টিয়া প্রতিবেদক \ কুষ্টিয়ায় এনআইডি কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে শতকোটি টাকার সম্পত্তি দখলের ঘটনায় তোলপাড় সারাদেশ। এনআইডি কার্ড জালিয়াতি ও জমি দখলের ঘটনায় প্রতারক চক্রের অনেককেই আটক করেছে পুলিশ। তবুও ভূমি দস্যুদের লাগাম টানা যাচ্ছে না। একের পর এক বেরিয়ে আসছে ভুমি দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য। কুষ্টিয়া শহরের পর এবার ভেড়ামারা শহরে গোডাউন মোড় এলাকায় প্রতারনার মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে ভূমি দস্যু হাজী আব্দুল আজিজ গংদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী আরিফুল ইসলাম দ্বারে দ্বারে ঘুরেও দখল নিতে পারেনি তার সম্পত্তি। প্রশাসন থেকে জনপ্রতিনিধি কারো কাছেই পায়নি কোনো সহযোগিতা। সর্বশেষ ভরসার স্থান হিসেবে অভিযোগ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেশ ভাগের পরে বিনিময় প্রথার মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পত্তি .৬১একর সিএস পচরা-৫৪ ও ২৬০, এস পচরা- ৭৭, আর এস পচরা- ৩৮৭ খতিয়ান, যার মূল্য আনুমানিক ১২ কোটি টাকা। এই কোটি টাকার সম্পত্তির উপরে কুনজর পড়ে ভূমিদস্যু হাজী আব্দুল আজিজের পূর্ব পুরুষদের। তৎকালীন ১৯৫০ সালে ভূয়া নিলাম দেখিয়ে ভূমি ক্রয়ের চেষ্টা করে এই ভূমিদস্যুরা। তখন আদালতের আশ্রয় নেয় আরিফুল ইসলামের পূর্ব পুরুষেরা। আদালত তৎকালীন সময়ের নিলামকে ভূয়া আখ্যা দিয়ে রায় প্রদান করে আরিফুল ইসলামের পূর্ব পুরুষদের পক্ষে। তবুও থামেনি ভূমিদস্যুরা। একের পর এক ষড়যন্ত্র ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে ১৯৯০ সালের দিকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে উত্তরাধিকারী আরিফুল ইসলাম ও তার পরিবারকে। এর পর থকে দীর্ঘ ৩০ বছর পার হলেও ভূমি দস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারেনি তার সম্পত্তি। তবুও হাল ছাড়েনি আরিফুল ও তার পরিবার। প্রতিনিয়তই ন্যায় বিচারের আশায় দিন গুনছে অসহায় পরিবারটি।
এ বিষয়ে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, সিএস ও আরএস রেকর্ড আমাদের নামে থাকলেও প্রতারনার মাধ্যমে জোরপূর্বকভাবে ভূমিদস্যু আব্দুল আজিজ গং আমাদের সম্পত্তি জবর দখল করে আছে। দীর্ঘদিন দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ভূমিদস্যু আব্দুল আজিজ গংয়ের কাছ খেকে জমি দখলমুক্ত করতে পারেনি। তাই সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছি। আশাকরি তারা এর সুষ্ঠু সমাধান করে আমাদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেবেন। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, আব্দুল আজিজ গং অমানবিক নির্যাতন করে আমাদের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে জবর দখল নিয়েছে। আমি এই ভূমিদস্যু দখলদারদের বিচারের দাবী জানায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমিদস্যু আব্দুল আজিজ বলেন, সম্পত্তির সমন্ত বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে আছে। তাই আইনগতভাবে আামি তাদের উচ্ছেদ করেছি। যদিও ভূমিদস্যু আব্দুল আজিজ নিলামে জমি ক্রয়ের বৈধ কোনো কাজগপত্র দেখাতে পারেনি। এছাড়াও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দাম্ভিকতার সুরে তিনি বলেন, আমি আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য নই। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে জবাব দেবো।
এ বিষয়ে ভেড়ামারার নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ বলেন, প্রতারনার মাধ্যমে কেউ যদি কোনো জমি দখল করে থাকে, তা প্রমানিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, ভূমি দখলের সাথে জড়িতরা যতই শক্তিশালী হোক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Post a Comment

0 Comments